শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাসায় বন্ধুদের দাওয়াত দেয়ায় স্বামীকে ডিভোর্স!

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:৩৫ পিএম

কত কারণেই তো বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে- ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক। কিন্তু ডিনারে বন্ধুদের দাওয়াত দেয়ায় স্বামীকে যদি ডিভোর্স দেয়া হয়, তাহলে বিষয়টি অদ্ভুতই শোনাবে। তবে শুধু একদিন ডিনারে আনার জন্যই যে বিচ্ছেদ ঘটেছে বিষয়টি তেমনও নয়। এমন কাণ্ড ঘটেছে তুরস্কে।

বন্ধুদেরকে বাসায় দাওয়াত দিয়ে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করা নিঃসন্দেহে সুন্দর কিছু মুহূর্তের জন্ম দেয়। কিন্তু সেটা যদি নিয়মিত হয়, তাদেরকে রান্না করে খাওয়ানোর চাপটা কিন্তু অন্দরমহলের ওপর ঠিকই পড়ে।

পুরুষদের সন্তুষ্ট রাখতে কিংবা বন্ধুদের কাছে তাদের প্রশংসিত করে তুলতে নারীদের ওই সময় এক ব্যস্ততম সময় পার করতে হয়। আর সেটি যদি প্রতিদিনই হয়, নিশ্চয়ই কোন নারীর পক্ষেই মেনে তা নেয়া সম্ভব হবে না!

বিষয়টা কেবল এখানেই থেমে থাকেনি। প্রায় প্রতিদিনই ডিনারে বন্ধুদের দাওয়াত দেয়া নিয়ে তুর্কি এক দম্পতির মধ্যে বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত এনিয়ে স্ত্রীকে নাকি নিপীড়নও করেন স্বামী। নিরুপায় হয়ে স্বামীকে ডিভোর্স দিতে আদালতের দ্বারস্থ স্ত্রী।

স্ত্রীর পক্ষে রায় দেয় নিম্ন আদালত। এনিয়ে নিম্ন আদালতের প্রধান ওমের উগুর জেনসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, ‘আপনার ঘর কোনো রেস্তোরাঁ নয় আর আপনার স্ত্রীও সেখানকার রাঁধুনী নন।’

উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ সিনোপের গেরজে জেলার দেওয়ানি আদালত ওই নারীর পক্ষেই সিদ্ধান্ত দেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের রুল জারি করেন।

কিন্তু আদালতের এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি স্বামী। রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। কিন্তু আপিল বিভাগও নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে।

নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে আপিল আদালত বলেছে, বন্ধুদের দাওয়াত দেয়ার সময় স্বামী কখনোই স্ত্রীর অনুমতি নেন না। এটা অবশ্যই স্ত্রীর ওপর এক ধরনের নির্যাতন।

এর আগে তুরস্কের একটি আদালত রুল জারি করেছে, স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া স্বামী যদি কোনো অবিবাহিত পুরুষকে রাতে ঘরে থাকতে দেয়, তাহলে সেটি বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত