চাইলেই ইমরান খানের উচ্চতায় যাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া এই ক্রিকেটার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া মাশরাফি নড়াইল-২ আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন।
ক্রীড়া তারকাদের রাজনীতিতে নাম লেখানো নতুন কিছু নয়। তাবে মাশরাফির ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম, জাতীয় দলে খেলা অবস্থাতেই রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন তিনি।
এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নানা বিষয় নিয়েই কথা বলেন মাশরাফি। এসময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া ইমরান খানের সঙ্গে তার তুলনার প্রসঙ্গ এলে মাশরাফি বলেছেন, ‘‘সত্যি করে বলতে গেলে, ইমরান খান নিজেকে যে উচ্চতায় নিতে সমর্থ হয়েছেন। চাইলেই সবার পক্ষে তা সম্ভব না। সত্যিই ভালো কিছু করতে পারি কিনা, তা দেখতে আমি আমার নিজ অঞ্চলের জন্যই কাজ করতে চাই।’’
ইমরান খান পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক। ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন তিনি।
সামাজিক অবক্ষয় ঠেকাতে তরুণদের রাজনীতিতে আসা উচিৎ বলেও মন্তব্য করেন মাশরাফি। এই ক্রিকেটার বলেন, ‘‘আমাদের সামাজিক অবক্ষয় খুব কাছ থেকে দেখছে তরুণ প্রজন্ম। আমার মনে হয়, তাদেরও রাজনীতিতে আসা উচিত।’’
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মাশরাফি জানিয়েছেন, ক্রীড়া জগতের মানুষ হওয়ায় দেশের খেলাধুলার উন্নতির মধ্য দিয়েই রাজনীতিতে অবদান রাখতে চান। আপাতত নিজ অঞ্চলের মানুষের জন্য কাজ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভক্তসমর্থকদের একাংশ এখনও তার রাজনীতিতে প্রবেশে খুশি নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, কেন তিনি এ দেশের ‘নষ্ট’ রাজনীতিতে জড়ালেন। কেউ কেউ তার আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ারও বিরোধিতা করেছে। তবে মাশরাফি এএফপিকে বলেছেন, তিনি কোনোদিন অধঃপতিত হবেন না।
ভিন্নমতের প্রতি নিজের শ্রদ্ধাবোধের কথা জানিয়ে নড়াইল এক্সপ্রেসখ্যাত এ ক্রিকেটার বলেন, ‘স্পষ্ট করে বলতে পারি, ভিন্ন দল কিংবা ভিন্ন বিশ্বাসের, ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের মানুষের প্রতি আমার কোনো অশ্রদ্ধা নেই। নিজ দলের প্রতি সবটুকু সমর্থন সত্ত্বেও বিরোধীদের প্রতি আমার শতভাগ শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।’
টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটের ক্রিকেট থেকে এরইমধ্যে অবসর নিয়েছেন মাশরাফি। ২০০৯ সালের পর আর কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেননি। তবে একদিনের ম্যাচে এখনও তিনি দাপটের সঙ্গে খেলছেন। নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশকে।
সব ঠিক থাকলে ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন মাশরাফি। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইশ গজের উইকেটে মাশরাফির জীবন দিয়ে লড়াই করার মতো দেশপ্রেমই ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
