একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনে মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীতসহ মোট ২২ প্রার্থী লড়ছেন। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো এখানেও শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে নৌকা আর ধানের শীষের মধ্যেই। জেলার চারটি আসনের সবকটিতে জয় ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ, অপরদিকে অন্তত দুটি আসন পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি।
বাগেরহাটের আসনগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে দুটিতে বিএনপি ও দুটিকে জামায়াতের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে চারটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে দুটি আসনে আওয়ামী লীগ, একটি বিএনপি ও একটিতে জামায়াত জয়লাভ করে।
চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-১ আসন গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ দুই হাজার ৩২৮ জন। আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনে একবার বিএনপির বিজয় ছাড়া কখনো আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়নি। এই আসনটি থেকে সব সময় প্রার্থী দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধুর পরিবার থেকে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এবার নির্বাচন না করায় তার চাচাতো ভাই বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি এই আসন থেকে চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
বিএনপি থেকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে মো. শেখ মাসুদ রানাকে। তিনি নতুন মুখ, পেশায় মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকায় এলাকায় তার তেমন পরিচিতি নেই। গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগের ‘দুঃশাসন’ তাকে বিজয়ী করবে বলে দাবি করেন তিনি।
বাগেরহাট সদর ও কচুয়া উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-২ আসন গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৮৪ হাজার ৯৬ জন। আসনটিকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আসন বলে ধরা হয়ে থাকে।
