বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পটুয়াখালীতে টাকা ছাড়া মিলছে না বিনা মূল্যের বই

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:৫৭ এএম

নতুন বছরের শুরুর দিনের বই উৎসবে বিনা মূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও পটুয়াখালীর কয়েকটি স্কুলে টাকা ছাড়া বই দেওয়া হয়নি। সেশন ফির নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নতুন বই নেওয়ার জন্য সেশন ফির নামে টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে বই দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে জেলার অনেক শিক্ষার্থীই এখন পর্যন্ত নতুন বই পায়নি। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, জেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে স্কুলভেদে শিক্ষার্থীদের ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। সেশন ফি ও ভর্তি বাবদ এ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা। কলাপাড়া উপজেলার ৩৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ২৭টি মাদ্রাসার সব কটিতেই টাকা ছাড়া বই দেওয়া হয়নি।

খেপুপাড়ার মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খেপুপাড়া নেছারউদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসাসহ অন্তত ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খবর নিয়ে জানা যায়, ভর্তি ও সেশন ফির টাকা পরিশোধ না করায় শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন স্কুলে নতুন বই এখনো স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এমন চিত্র অধিকাংশ স্কুল-মাদ্রাসার।

মহিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস ছালাম জানান, নতুন ভর্তিসহ সেশন ফি বাবদ ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে টাকার জন্য কোনো শিক্ষার্থীর বই বিতরণ বন্ধ রাখা হয়নি। খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, টাকার জন্য কারও বই আটকানো হয় না। সেশন ফি ৭০০ টাকার সঙ্গে অন্য চার্জ নেওয়া হচ্ছে। তবে কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, এ স্কুলে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলার একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাবা সুব্রত ভট্টাচার্য জানান, বিদ্যালয়ের চাহিদামতো টাকা পরিশোধ না করায় প্রথমে তার মেয়েকে বই দেওয়া হয়নি। নবম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান জানায়, সেশন ফি বাবদ ৭০০ টাকা পরিশোধ করার পর তাকে বই দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী ‘এ বিষয়ে অভিযোগ জানালে ক্ষতি হতে পারে’ এই ভয়ে নাম প্রকাশ করতে চায়নি।

কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর রহমান জানান, বই উৎসবের দিনে সেশন ফি, ভর্তি ফি বাবদ কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। তা ছাড়া ফি আদায়ের জন্য বই আটকে রাখার সুযোগ নেই। কোনো স্কুলে এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত