প্রেম মেনে না নেওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:১৩ পিএম

নীলফামারীতে প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থী আল-আমিন হোসেন (১৬) নামে এক প্রেমিকের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। প্রেমিকের আত্মহত্যার কথা শুনে প্রেমিকাও আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার।    

শনিবার গভীর রাতে জেলা সদরের সংগলশী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামে মামার বাড়ির শোয়ার ঘরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে সে। আল-আমিন জেলা সদরের চড়াইখোলা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। সে নীলফামারী টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

এদিকে প্রেমিকের আত্মহত্যার খবর পেয়ে রোববার সকালে নিজ বাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা করে প্রেমিকা জেসমিন আকতার। তাকে গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। 

নীলফামারী সদর থানার উপ-পরিদর্শক এইচ.এম নাজমুল হুদা বলেন,‘তাদের দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। এই বিষয়টি দুই পরিবারে সদস্যরা মেনে না নেওয়ায় প্রেমিক আল-আমিন আত্মহত্যা করে। সে খবর শুনে তার প্রেমিকা জেসমিনও  আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের কারণে ব্যর্থ হয়। বর্তমানে সে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আল-আমিনের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পরিবারে অভিযোগ না থাকায় আল-আমিনের লাশ তার মা আলফা বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

এলাকাবাসী জানায়, আল-আমিন হোসেন বয়স যখন চার মাস সেই সময় তাঁর বাবা দেলোয়ার হোসেন মারা যায়। সে থেকে মা আলফা বেগমের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সংগলশী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের মামা হোসেন আলী ও কফিল আলীর বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছে আল-আমিন। 

আল-আমিনের মা আলফা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘আমি ইপিজেডে একটি কারখানায় কাজ করি। শনিবার কারখানার কাজ শেষে রাত ৯টার দিকে বাড়িতে আসি। ছেলেকে নিয়ে রাতের খাওয়া শেষে আমি  ঘুমাতে যাই। আর ছেলে পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য লেখাপড়া করছিল। এরপর কখন আত্মহত্যা করেছে সেটি আমরা জানতে পারিনি। সকালে ঘরের দরজা না খুললে বেড়ার ফাঁক দিয়ে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাই। দরজা ভেঙ্গে লাশ নামায় আমার পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীরা।

আলফা বেগম বলেন, ‘এরপর সকালে তার চাচাত বোনের আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক লোকমুখে শুনতে পাই।’

অপরদিকে জেসমিন আক্তারে চাচি পারুল বেগম বলেন, ‘সকালে ইপিজেডে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয় জেসমিন। এরই মধ্যে আমার বড় ভাশুরের ছেলে আল-আমিনের আত্মহত্যার খবর আসে বাড়িতে। আল আমিনের মৃত্যুর খবর শুনে ঘরে ঢুকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে জেসমিন। তাকে গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সুস্থ আছে সে।’

তিনি আরো বলেন,‘তারা দু’জনে চাচাতো ভাই বোন। তাদের মধ্যে কখন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে আমরা কেউ জানতে পারিনি। আজ সকালের যখন আল-আমিনের মৃত্যুর পর জেসমিন আত্মহত্যা চেষ্টা করে তখন জানতে পারি তাদের দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আগে জানলে দুই পরিবারের মিলে তাদের সম্পর্ক মেনে নিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করতাম।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত