একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন গতকাল সোমবার। নতুন মন্ত্রিসভার ৪৭ সদস্যের মধ্যে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের তিনজন ঠাঁই পেয়েছেন। তারা হলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও বিশিষ্টজনরা বলছেন, চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু ও অর্থনীতির সিংহদ্বার। সে জন্য দেশকে এগিয়ে নিতে বন্দরনগরীর আরও কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় রাখা প্রয়োজন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মহাজোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। সেবার টেকনোক্র্যাটসহ চারজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেন। বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং টেকনোক্র্যাট হিসেবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী হন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসি। ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। এ ছাড়া প্রথমে পানিসম্পদমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে বন ও পরিবেশমন্ত্রী হন জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এর আগে নবম সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনের সাংসদ ডা. আফছারুল আমিন।
নতুন মন্ত্রিসভার নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামসহ সারা দেশকে উন্নয়নের মাধ্যমে যেভাবে এগিয়ে নিয়েছেন তা অভাবনীয়। দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে যারা এরই মধ্যে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সকলের তথ্য-উপাত্ত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহ করেছেন। দলসহ সব বিষয় বিবেচনা করে এবারও সুন্দর একটি মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। এতে চট্টগ্রামের তিন জন স্থান পেয়েছেন।’
চট্টগ্রাম বন্দর বাঁচলে, দেশ বাঁচবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চট্টগ্রাম থেকে কাউকে দিলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। দেশের বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। চট্টগ্রাম থেকেই দেশের সিংহভাগ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। ’ চট্টগ্রামের তিনজনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন এই শিক্ষক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষমতা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। এখানে কারও হাত নেই। এখানে তো জেলার বিষয় নয়, যোগ্যতাই মুখ্য। আগামী দিনগুলো দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের ইশতেহার বাস্তবায়ন ও দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বর্তমান মন্ত্রিসভাকে প্রধানমন্ত্রী সাজিয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব আগেই নিয়েছেন এবং আগামীতেও এর ধারবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
