বগুড়ার কাহালু উপজেলার দেওগ্রাম বাজারে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। একদল ডাকাত পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই বাজারের ছয় পাহারাদারকে ডেকে নিয়ে বেঁধে রেখে ২২টি দোকানে লুটপাট চালায়। এসময় তারা দোকানগুলো থেকে নগদ টাকাসহ মালামাল ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, দোকানগুলো থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বাজারের ছয় পাহারাদারকে আটক করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ছয় পাহারাদার হলেন- হামেদ আলী, সোলেমান হোসেন, সাহের আলী, আব্দুল গোফফার, জাহাঙ্গীর হোসেন ও শহিদুল ইসলাম।
তারা জানান, সোমবার রাতে তারা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে বাজার পাহারা দিচ্ছিলেন। রাত ১টার দিকে একটি ট্রাক দেওগ্রাম স্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ায়। ওই ট্রাক থেকে অন্তত ২০ জন লোক নেমে সামনে থাকা দুই পাহারাদারকে ডেকে নেয়।
তারা নিজেদের পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে জানায়, মাদকের একটি চালান আটক করতে তারা অভিযানে এসেছেন। এজন্য তারা ওই বাজারের সব পাহারাদারকে সহযোগিতা করার জন্য একত্রিত হতে বলেন।
সব পাহারাদার সেখানে পৌঁছলে ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের বেঁধে ফেলে। পরে তাদের বাজারের নিকটবর্তী ফাঁকা মাঠে নিয়ে ফেলে রাখা হয়।
পাহারাদাররা জানায়, ডাকাতদল তাদের বেঁধে রেখে লুটপাট করে চলে যাওয়ার পর সকালে স্থানীয় লোকজন গিয়ে তাদের বাঁধন খুলে মুক্ত করে।
দেওগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাছিম উদ্দিন জানান, ডাকাতদল ওই বাজারের মোট ২৮টি দোকানের তালা ভাঙলেও ২২টি দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, প্রতিটি দোকানেই তারা ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ অর্থ নিয়েছে। এছাড়া দামি সিগারেট, ওষুধপত্র, কাপড়-চোপড়, মোবাইলের ক্র্যাচ কার্ড, মেমোরি কার্ডসহ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করা হয়েছে।
নগদ টাকাসহ লুটপাট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি।
কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত কবির বলেন, মঙ্গলবার সকালে ঘটনা জানার পর তিনিসহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নন্দীগ্রাম সার্কেল) আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয় পাহারাদারকে আটক করা হয়েছে।
লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে ইতোমধ্যেই পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে বলেও জানান ওসি।
