আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মহিউদ্দিন সোহেলকে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যা’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। মঙ্গলবার বিকেলে ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সোহেলের পরিবার ও স্বজনদের পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করা হয়।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ছিলেন নিহত মহিউদ্দিন সোহেল। এরআগে তিনি ছাত্রলীগের উপ-শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। উল্লেখ্য, সোমবার সকালে নগরীর ডবলমুরিং থানার পাহাড়তলী বাজারে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশ ও বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ব্যবসায়ী ও জনতা গণপিটুনি দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সোহেলের ভাই শাকিরুল ইসলাম শিশির বলেন, মূলত পাহাড়তলি বাজার ও আশপাশের এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ, মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা করার ঘোষণা ও সে লক্ষ্যে কাজ শুরু এবং পাম্প হাউস কলোনির রাস্তা আলোকিত করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়াই তার কাল হয়ে দাঁড়ায়।
শাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাই এলাকার মাদক আখড়া ভেঙে দেন। স্থানীয় কাউন্সিলর সাবের আহম্মেদ ও জাতীয় পাটির নেতা ওসমান খানের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা অনৈতিক ব্যবসার আখড়া ভেঙে সেখানে স্থানীয়দের জন্য জানাজার মাঠ নির্মাণ করেন আমার ভাই’।
আমার ভাইয়ের নামে থানায় কোনো মামলা নেই উল্লেখ করে শাকিরুল অভিযোগ করেন, ‘পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে চাঁদাবাজ তকমা দিয়ে তার সারা জীবনের রাজনৈতিক চর্চাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গণপিটুনিতেই যদি আমার ভাই মারা যাবে, তাহলে আপনাদের মনে কী একটু জানার কৌতূহল ছিল না তার শরীরে ২৬টি ছুরির আঘাত কেন? বাজারে রেলের যে ঘর দখলে রাখার কথা বলা হচ্ছে, আসলে সেই জমি আমার ভাই লিজ নিয়েছিলেন গুদাম করার জন্য।’
সোহেল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করে শাকিরুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমে আমার ভাইকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিচ্ছে, হাত জোড় করে বলছি আমার ভাই চাঁদাবাজ না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সোহেলের বাবা আবদুল বারেক, মা ফিরোজা বেগম, স্ত্রী নিগার সুলতানা, দুই বোন রাজিয়া সুলতানা ও নাজনিন সুলতানা এবং সোহেলের দুই শিশু সন্তান।
