দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতে ভারতীয় সিনেমা-নাটক-বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। বলা যায় এই উপমহাদেশের বিনোদন জগতে একক আধিপত্য বিরাজ করছে ভারত। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর শিল্প সংস্কৃতিতে ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে নানা সময়েই নানা প্রতিবাদ উঠেছে। প্রতিবাদের দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান।
২০১৬ সালে পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথোরিটি (পেমরা) ভারতের অনুষ্ঠান পাক টিভিতে দেখানো বন্ধ করে দেয়। ২০১৭ সালে ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয় লাহোর হাইকোর্ট। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল হওয়ায় পাকিস্তানি চ্যানেলগুলোতে দেদারসে প্রচারিত হয়েছে ভারতীয় নানা অনুষ্ঠান। পুরনো সেই বিষয়টি নিয়ে আবারও পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে মামলা উঠেছে।
ফলে তিন বছর পর পাকিস্তানে আবারও নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে যাচ্ছে ভারতীয় বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান। পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সাকিব নিসার বুধবার জানিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানে এসব আর দেখানো যাবে না। ভারতের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান পাকিস্তানের সংস্কৃতি ধ্বংস করে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন এই বিচারপতি। শিগগিরই সুপ্রিম কোর্ট মারফত নিষেধাজ্ঞাও জারি করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘ভারতীয় বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ জিনিস চলতে দেবে না সুপ্রিম কোর্ট।’
৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের ৩ বিচারপতির বেঞ্চে মামলার কার্যক্রম চলাকালীন পেমরা’র চেয়ারম্যান সালিম বেগ একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। যেখানে বলা হয়, পাকিস্তানের বিনোদন চ্যানেলের ৬৫ শতাংশ অনুষ্ঠানই ভারতের। কখনো কখনো তা ৮০ শতাংশও ছুঁয়ে ফেলে। এমন তথ্য শোনার পরেই প্রধান বিচারপতি ভারতীয় অনুষ্ঠান পাক টিভি চ্যানেলে চলতে দেবেন না বলে মন্তব্য করেন।
এর আগে অবশ্য পেমরা দেশের সব টিভি চ্যানেলকে কোনো ঘনিষ্ঠ দৃশ্য না দেখানোর নির্দেশ দেয়। পেমরার নির্দেশিকায় বলা হয়, অশালীন দৃশ্য, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, হিংসা, অশালীন পোশাক, ধর্ষণের দৃশ্য, শয্যাদৃশ্য, ড্রাগ-মদের ব্যবহারের দৃশ্য পাকিস্তানের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের জন্য প্রবল ক্ষতিকারক। এগুলো দেখানো যাবে না।
