রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দূষণে বিপন্ন শীতলক্ষ্যা

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০৪:২৬ এএম

নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি কালচে রং ধারণ করেছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। তীরবর্তী কলকারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ্যে দূষিত শীতলক্ষ্যা দিন দিন আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় খেয়াঘাট এলাকার ৬০ বছর বয়সী রমজান মিয়া একসময় শীতলক্ষ্যায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নদীর পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নদীতে এখন আর তেমন মাছ পাওয়া যায় না বলে তিনি নৌকা চালান। তিনি জানান, নৌকা চালাতেও বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষাকালে নদীতে পানি বেশি থাকায় দুর্গন্ধ সহনীয় থাকলেও শীতকালে দুর্গন্ধে টেকা কষ্টকর।

শীতলক্ষ্যার তীরঘেঁষা নবীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সাইফুল জানান, গত দুই দশক আগেও শীতলক্ষ্যার পানি ছিল বেশ টলটলে। এখানে গোসল করা যেত। মানুষ এখান থেকে পানি নিয়ে গৃহস্থালির কাজ করত। কিন্তু এখন নদীর পানিতে নামা তো দূরের কথা, দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকাও দুষ্কর।

নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলনের সমন্বয়ক মোস্তফা করিম বলেন, ‘দূষণের ফলে শীতলক্ষ্যায় মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এ নদীকে রক্ষার ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি আশু পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।’

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘নির্ভীক’-এর প্রধান সমন্বয়ক এ টি এম কামাল বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্প কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য শীতলক্ষ্যা দূষণের মূল কারণ। সংশ্লিষ্টরা গোলটেবিল বৈঠক, সভা সেমিনার করে দূষণরোধে বক্তব্য দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো কিছুই হচ্ছে না।

পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জোনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জরিমানা কিংবা প্রশাসনিক ঝামেলা এড়াতে অনেক কলকারখানায় তরল বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) নির্মাণ করে রাখা হলেও, তা ব্যবহার করা হয় না। অনেক মালিকের দাবি, এটা ব্যবহার করলে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হয়। সে খরচ বাঁচাতেই বিকল্প পাইপ দিয়ে অনেক ডাইং ও শিল্প-কারখানা মালিকরা তাদের কেমিক্যালযুক্ত পানি সরাসরি নদীতে ফেলে দিচ্ছে। আর এ কাজ রাতে বেশি করায় প্রায়ই তাদের ধরা যাচ্ছে না।

তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের ৩৬৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে তরল বর্জ্য নিষ্কাশন হয়। এর মধ্যে ইটিপি আছে ২৪৭টির। ২৮৭ ডাইং কারখানার মধ্যে ২৯টির ইটিপি নির্মাণাধীন। এসব কারখানার দূষিত পানি গিয়ে পড়ছে শীতলক্ষ্যা নদীতে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত