ছেলে খুনের খবর পেয়ে মারা গেলেন সেই অসুস্থ মা

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:১৪ পিএম

বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যানসার আক্রান্ত মা আয়েশা বেগমকে (৫২) দেখতে গিয়েছিলেন ছেলে আপেল মাহমুদ (৩২)। ওই রাতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ফাঁসিতলা মোঘলটুলি বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথিমধ্যে কাহালুর এলাকায় আপেলকে খুন করে ফাঁকা মাঠে লাশ ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার সকালে ছেলে হত্যার খবর শোনেন মা আয়েশা, দুপুরে তারও মৃত্যু হয়। আপেলকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পুলিশ।

মা ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাহালু থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে মা ও ছেলের মরদেহ বাড়িতে  পৌঁছালে আত্মীয়সহ প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, কে বা কারা এই হত্যা করেছে তা তারা বুঝতে পারছে না। আপেলের কেনো শত্রু ছিল না।

আপেল মাহমুদ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা মোঘলটুলি এলাকার সৈয়দ আব্দুল ওহাব দীপ্তির ছেলে। তিনি ইনডেক্স বিজনেস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামে একটি আর্থিক লেনদেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। পাশাপাশি ফাঁসিতলা এলাকায় একটি ময়দা মিল চালাতেন।

বগুড়া কাহালু থানার ওসি শওকত কবির দেশ রূপান্তরকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানায় খবর আসে উপজেলার বারমাইল-নামুজা সড়কে ছাতারপুকুর এলাকায় মাঠে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে আছে। পুলিশ রাত সাড়ে ১১টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই মরদেহ উদ্ধার করে। সেসময় লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থেকে কিছু মানুষ থানায় গিয়ে লাশ শনাক্ত করে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ  হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে লাশ নিতে আসা নিহত আপেলের চাচা সৈয়দ আশরাফুল আলম মানিক জানান, তার মা আয়েশা বেগম (৫২) ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার বিকেলে আপেল তার মাকে দেখতে ওই হাসপাতালে যান। এরপর সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি ফেরার উদ্দেশে হাসপাতাল থেকে বের হন। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।

তিনি জানান, রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তার সন্ধানে নেমে পড়েন। এরই মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা জানতে পারেন কাহালুতে ওই বয়সী এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা সেখানে গিয়ে লাশটি আপেলের বলে শনাক্ত করেন। আপেল খুন হয়েছে এই খবর পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মা আয়েশা বেগম শুক্রবার দুপুরে মারা যান। তিনি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচার দাবি করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এক ভাই এক বোনের মধ্যে আপেল মাহমুদ বড়। আপেল মাহমুদ দেড় বছর আগে বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রী রনি বেগম সন্তান সম্ভবা। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে তিনি জ্ঞান হারিয়ে বগুড়ার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

কামারদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রতন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বছরের অক্টোবর মাসে আপেল মাহমুদ ও তার বাবার নামে একটি ধর্ষণের মামলা হয়। ঘটনা ছিল সাজানো। কারা আপেল মাহমুদকে হত্যা করেছে তা বোঝা যাচ্ছে না। রাতে দাফনের পর কাহালু থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে মামলা করা হবে। 

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বছরে অক্টোবর মাসের একটি ধর্ষণ মামলায় আপেল মাহমুদ সহযোগী হিসেবে দ্বিতীয় আসামি। কয়েকদিন আগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি জামিনে ছিলেন।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত