চাঞ্চল্যকর ফাহিমা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পি.বি.আই) এর ভাষ্য- কথিত স্বামী মো: সেলিম (৩০) জিঘাংসা মূলক প্রতিশোধ নিতে ফাহিমাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
শনিবার বেলা ১১ টায় নোয়াখালীর মাইজদী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত পি.বি.আই এর অফিসে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ পুলিশ সুপার মো: ইকবাল সাংবাদিকদের জানান, সেলিম হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।
এদিকে, ফাহিমার পিতা এবং মামলার বাদী জহিরুল হক জানান, মেয়ের বিয়ের খবর আমরা জানতাম না এবং এ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র বা প্রমাণও পাই নি। অভিযুক্ত সেলিমের সঙ্গে সাংবাদিকদেরও কথা বলতে দেয় নি পুলিশ।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ পুলিশ সুপার মো: ইকবাল জানান, মোবাইল ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার ডিগ্রির চরের শুকুর আলীর ছেলে মো: সেলিমকে চট্টগ্রামের চাঁদগাও এর মৌলভির দিঘির এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানান, পি.আই.বির জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত সেলিম তদন্তকারী দলকে জানায়, গত রমজানের ৩ দিন পূর্বে সে ফাহিমাকে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর তারা ২ মাস ঢাকায় বসবাস করেন। কিছুদিন পূর্বে ফাহিমা নোয়াখালী চলে আসে এবং ফোনে তার কাছে আর যাবে না বলে জানায় এবং ইতোমধ্যে আরেকটি ছেলের সাথে সে প্রেম শুরু করে।
সেলিম এ ঘটনা সহ্য করতে না পেরে ৯ জানুয়ারি সে নোয়াখালী এসে সোনাপুর থেকে একটি ধারালো ছুরি কেনে। সন্ধ্যায় ফাহিমাদের বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে তাকে জবাই করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। সে জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত ছিলো না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিশেষ পুলিশ সুপার মো: ইকবাল জানান, খুনির রক্তমাখা জামা কাপড় উদ্ধার করা যায়নি। এসময় অভিযুক্ত মো: সেলিমের সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে, তা দেয়া হয় নি। তবে, ছবি তুলতে গেলে সে চিৎকার করে কান্না করছিল। পরে হাজতে ঢোকানো হলে সে দেয়ালে মাথা ঠোকাচ্ছিল। নোয়াখালী পি.বি.আই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বসু দত্ত চাকমা জানায়, সে একা নাকি আরো সহযোগী ছিল তা তদন্ত করে দেখা হবে।
উল্লেখ্য যে, গত ৯ জানুয়ারি রাত ৮ টার দিকে সুধারাম থানার ধর্মপুর ইউনিয়নের জহুর আলী হাজী বাড়ির জহিরুল হকের মেয়ে ফাহিমা আক্তারকে বাড়ির পেছনে আড়ায় নিয়ে অজ্ঞাত খুনিরা নৃশংসভাবে হত্যা করে। খুনিরা তার গলা কেটে, শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষত বিক্ষত করে ফেলে রেখে যায়।
এদিকে পি.বি.আই অফিসের নিচতলায় অপেক্ষারত মামলার বাদী জহিরুল হক জানায়, তার মেয়ে ফাহিমার বিয়ের কথা তারা জানতেন না এবং বিয়ের কোন কাগজপত্রও দেখেননি। ফাহিমাও কখনও জানায়নি। এছাড়া তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, একা কোন ব্যক্তি এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে না।
