নারীশিক্ষা নয়, ছেলে-মেয়ে এক সঙ্গে শিক্ষার বিরোধিতা করেছি: আহমদ শফী

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৪৬ পিএম

গণমাধ্যমে তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে দাবি করে হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফী দাবি করেছেন, তিনি নারীশিক্ষার বিরোধিতা করেননি। নারীদের নিরাপদ শিক্ষার কথা বলেছেন।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আহমদ শফী বলেছেন, আমাদের দেশের বেশিরভাগ সাধারণ শিক্ষাকেন্দ্রে সহশিক্ষা দেওয়া হয়, অর্থাৎ ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে শিক্ষাগ্রহণ করে থাকে। এতে করে পর্দার লঙ্ঘন হয়। আমি মূলত এই সহশিক্ষা গ্রহণেই মানুষকে সতর্ক করতে চেয়েছি।

এর আগে শুক্রবার জামিয়েতুল আহলিয়ে দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার ১১৮তম মাহফিলে দেওয়া ভাষণে আহমদ শফী বলেন,  ‘আপনাদের মেয়েদের স্কুল-কলেজে দেবেন না। ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়াতে পারবেন। আর বেশি যদি পড়ান... পত্র-পত্রিকায় দেখতেছেন আপনারা... মেয়েকে ক্লাস এইট, নাইন, টেন, এমএ, বিএ পর্যন্ত পড়ালে ওই মেয়ে কিছুদিন পর আপনার মেয়ে থাকবে না’।

এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার পর শনিবার রাতে পাঠান বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, মাহফিলে দেওয়া আমার বক্তব্যের একটি খণ্ডাংশ বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুলভাবে উপস্থাপন করায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি।

তিনি বলেছেন, ইসলামের একটি মৌলিক বিধান হচ্ছে পর্দা। নারীদের পর্দার বিষয় ইসলামে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আমি আমার বক্তব্যে বলতে চেয়েছি, শিক্ষাগ্রহণ করতে গিয়ে যেন পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা না হয়। 

আহমদ শফী আরো বলেছেন, আমি জানতে পেরেছি যে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমাকে নারীবিদ্বেষী ও নারী শিক্ষাবিদ্বেষী বলে প্রচারণা চালান হচ্ছে। যা দুঃখজনক।

তিনি দাবি করেছেন, তারা আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে। আমি হাইয়াতুল উলইয়ালিল জামিয়াতিল কওমিয়া'র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আপনারা জানেন যে হাইয়ার অধীনে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সনদ গ্রহণ করে থাকেন।

হেফাজতে ইসলামের সর্বোচ্চ এ নেতা বিবৃতিতে বলেছেন, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান প্রধান করেছেন। এতে করে আমাদের দেশের লাখো মাদ্রাসা ছাত্র ও ছাত্রী দাওয়ারে হাদিস পাশ করে মাস্টার্সের সমমান অর্জন করছেন।

তিনি আরো বলেছেন, যে সম্মিলিত বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে হাজার হাজার নারী রাষ্ট্র স্বীকৃত উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত বলে পরিগণিত হচ্ছে, সেই বোর্ডের প্রধান হয়ে আমি কীভাবে নারী শিক্ষার বিরোধী হলাম তা বোধগম্য নয়।

আহমদ শফি বলেছেন, আমি বা আমরা নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে নই, তবে নারীর জন্য নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয় আমরা আগেও সতর্ক করেছি, এখনো করছি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা চাই এ দেশের নারীরা শিক্ষিত হোক, কারণ মা শিক্ষিত হলেও সন্তান সঠিক শিক্ষা পাবে।

তিনি সবাইকে নারীর জন্য নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত