ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দেশি স্টল-প্যাভিলিয়নের তুলনায় বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোতে বেশি ভিড় করছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। মানসম্মত নতুন পণ্য, আভিজাত্য, প্রচারণাসহ নানা কারণে ক্রেতারা বিদেশি স্টলগুলোতে আসছেন বলে মনে করছেন দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীরা। বিদেশি কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তারা যেসব পণ্য মেলায় নিয়ে এসেছেন তার বেশিরভাগই এদেশে নতুন। বাণিজ্য মেলা ছাড়া অন্য সময়ে এগুলো বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। এজন্য বিদেশি পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি। তবে দেশি ব্যবসায়ীরা বলছেন, জুতা, সিরামিক, সাজসজ্জাসহ অসংখ্য দেশীয় পণ্যের স্টলে বিদেশি স্টলের তুলনায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে তারা হতাশ। অসম প্রতিযোগিতার কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
গতকাল রবিবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় তেমন একটা নেই। তবে যারা এসেছেন তারা সবাই ভিড় করছেন বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোতে। তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে হরেক ডিজাইনের কার্পেট নিয়ে এসেছেন হালিফা বিলাল। তুর্কি প্যাভিলিয়নের প্রায় পুরোটা জুড়েই তার পণ্য সাজানো। ভরদুপুরে মেলায় ভিড় কম থাকলেও ক্রেতাদের চাপে তাকে ভীষণ ব্যস্ত দেখা যায়। নিজ দেশের বিখ্যাত সব ব্যক্তির নামে কার্পেটের নামকরণ করেছেন তিনি। সুলতান সুলেমান, কামাল আতাতুর্ক, এরদোয়ান, শাগি, জারা, হ্যারিকেন ডিজাইনসহ তার কাছে প্রায় ৪০ ধরনের কার্পেট আছে। এগুলোর দাম সর্বনিম্ন ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। দোকানে ভিড়ের কারণ জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে হালিফা বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে আমি মেলায় আসছি, এখানে আমার কয়েকজন স্থায়ী ক্রেতা আছে। এগুলো ইস্তাম্বুলে আমার নিজস্ব কারখানায় তৈরি হয়; যার বেশিরভাগ হাতে তৈরি। এজন্য ক্রেতাদের কাছে এর কদরও বেশি।’ গতবার মেলা থেকে ৫ লাখ টাকা লাভ করেছেন; এবার তা দ্বিগুণ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
ঢাকার থাইল্যান্ড দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে মেলায় বসেছে দুটি থাই প্যাভিলিয়ন। এখানকার প্রায় সবই শিশু ও নারী পণ্য। সেজন্য এখানে দেখা গেছে নারী ক্রেতাদের ভিড়। বনশ্রী থেকে আসা জেসমিন জিনিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘থাইল্যান্ডের এমন অনেক ফ্যাশন পণ্য আছে যা এদেশে পাবেন না। এগুলো বেশ সস্তায় এখানে পাওয়া যায়। তবে মেলা শুরুর দিকে হওয়ায় এখন তেমন একটা ছাড় পাওয়া যাচ্ছে না।’ থাই প্যাভিলিয়নের ব্যবস্থাপক মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা এবার ড্রিমলাইট, শোপিস, অর্কিড, থাই ট্রি ফুডসহ বেশকিছু নতুন আইটেম নিয়ে এসেছি। এতে আমাদের প্যাভিলিয়নে ক্রেতাদের আকর্ষণ বেড়েছে।’
ইরানের খোরামান শাহ থেকে নানা ডিজাইনের আংটি নিয়ে এসেছেন দুই ভাই মুহাম্মদ আকবর ও জালাল। তাদের দোকানেও মেয়েদের ভিড় দেখা গেছে। তারা জানান, ইরানের ঐতিহ্যবাহী পাথর ও নকশা দিয়ে তৈরি নানা ডিজাইনের একেকটি আংটির দাম ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রায় রাজকীয় কায়দায় তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন সিরামিক পণ্য, ল্যাম্প, বাসাবাড়ি সাজানোর স্টল দিয়েছেন আঙ্কারার ব্যবসায়ী জামাল জমুর। তিনি দেশ রূপান্তরকে বললেন, বেচাকেনা খুব একটা না হলেও শৌখিন মানুষের ভিড় লেগেই আছে তার দোকানে।
এবারের বাণিজ্য মেলায় পাকিস্তানের কোনো প্যাভিলিয়ন নেই। ভিসা না পাওয়ায় তারা অংশ নিতে পারেনি। বিদেশি প্যাভিলিয়নের বেশিরভাগ জায়গাজুড়েই ভারতের আধিপত্য। জম্মু কাশ্মীর থেকে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী এসেছেন কার্পেট, সিরামিক, গৃহস্থালি এবং শালসহ নানা পণ্য নিয়ে।
