লাগাতার শিক্ষক আন্দোলনে অচলাবস্থায় হাবিপ্রবি

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:০৪ এএম

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) বিভিন্ন দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম ও ৫৭ জন সহকারী অধ্যাপক।

সম্প্রতি এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হয়রানির অভিযোগে গত ৫ নভেম্বর তারা উপাচার্য বরাবর ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য একটি স্মারকলিপি দেন। কিন্তু তারপরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ফুঁসে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে কার্যত অচলাবস্থা বিরাজ করছে হাবিপ্রবিতে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী যৌন নির্যাতনকারী শিক্ষক ড. মো. রমজান আলীকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ আরেক শিক্ষক দীপক কুমারের স্থায়ী শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কমুক্ত করা হোক। ওই দুজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগে ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও সিলেকশন কমিটির সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবে ড. ফেরদৌস মেহবুবের রহিত করা পদোন্নতি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন করার জন্য বলা হয়। এর বাইরেও আরও ৪টি দাবি যুক্ত করে স্মারকলিপি দেয় হাবপ্রিবির প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম।

এদিকে গত ১৪ নভেম্বর প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদোন্নিতপ্রাপ্ত ৫৭ জন শিক্ষক বেতন বৈষম্যের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তাদের লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষকরা। এ ঘটনায় ১৫ নভেম্বর থেকে ৫৭ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সিঁড়িতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা করে প্রতীকী অনশন পালন করে আসছেন। এ ঘটনায় প্রক্টর এবং ছাত্র পরামর্শকসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন তারা। গত ২৯ নভেম্বর বিষয়টি জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সফিউল আলমের কার্যালয়ে যান ওই ৫৭ শিক্ষক। এক পর্যায়ে রেজিস্ট্রারকে টেনেহিঁচড়ে তার কার্যালয় থেকে বের করেন তারা। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে।

রেজিস্ট্রার লাঞ্ছনার ঘটনায় ৫৭ জন শিক্ষকের মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সহকারী অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিক ও মোহসীন আলীকে গত ২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাময়িক বহিষ্কার করে। দুজন শিক্ষককে বহিষ্কারের প্রতিবাদে উপাচার্য আবুল কাসেমকে অবরুদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাংশ। তাদের দাবি, তদন্ত ছাড়া ২ শিক্ষকের সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হোক। প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় উপাচার্য তার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে ৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ১ মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় চালুর পর স্থগিত ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক বিষয়ক বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত অভিমত চলমান এই অচলাবস্থা নিরসনে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা দরকার।’ এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. সফিউল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, চলমান অস্থিরতার বিষয়ে তদন্ত কমিটি খুব শিগগির প্রতিবেদন দাখিল করবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত