ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ভোটাভুটিতে বড় ধরনের পরাজয় ঘটেছে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র। মঙ্গলবার রাতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে ভোটাভুটিতে ২৩০ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন তিনি।
বিবিসি জানায়, চুক্তির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৩২ জন আর পক্ষে ছিলেন ২০২।
দ্বিগুণের চেয়েও বেশি ব্যবধানে এ হারকে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে ক্ষমতাসীন দলটির সবচেয়ে বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন অনাস্থা ভোটের মুখে পড়বে মে’র সরকার।
মঙ্গলবার এ চুক্তি প্রত্যাখ্যানের ফলে যুক্তরাজ্য তার অর্ধ শতাব্দীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে অনিশ্চিত হয়ে গেল ব্রেক্সিটের ভবিষ্যৎ। সেই সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছরের আলোচনা, সমঝোতা, বিতর্ক ও দরকষাকষির সবকিছুই কার্যত বিফলে গেল।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়াই ব্রেক্সিট। ব্রিটিশ এক্সিট থেকে ব্রেক্সিট হলো সংক্ষিপ্ত রূপ। সুলভ মূল্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য ও অভিন্ন বাজারসুবিধা পেতে ১৯৭৩ সালে ইউরোপিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটির সঙ্গে সংযুক্ত হয় দেশটি।
কিন্তু নব্বই দশকের শুরুতে ইইউ নিজস্ব মুদ্রা, নীতিমালা, নাগরিকদের জন্য সীমানামুক্ত বিচরণসহ যুক্ত করাসহ অনেকগুলো পরিবর্তন আনে। কিন্তু অনেক ব্রিটিশ নাগরিক ব্রিটেনের ইইউ’র বিধি-নিষেধ মেনে চলা নিয়ে বেশ নাখোশ। যেটি শেষপর্যন্ত বড় ধরনের রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। ২০১৬ সালের ২৩ জুন এক গণভোটের মধ্য দিয়ে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেয় জনগণ।

এ বছরের মার্চে সম্পূর্ণভাবে ব্রেক্সিট সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু ইইউ’র সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্কসহ ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া নিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এই ভোটকে কেন্দ্র করে টানা পাঁচ দিন আলোচনা হয় হাউস অব কমন্সে। ভোটের ফলাফল যে টেরিজা মে’র বিপক্ষে যাবে এটি আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল। এই বিশাল পরাজয় সামাল দিয়ে টেরিজা মে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এখন এ পরাজয়ের ফলে মে’র সামনে দুইটি পথ খোলা আছে। তিন দিনের মধ্যে সরকারকে নতুন খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আসতে হবে, নয়তো ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের সময় বাড়িয়ে দেওয়া। অন্যথায় কোনো রকমের চুক্তি ছাড়াই ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সরাসরি সম্পর্ক বিচ্ছেদ ঘটবে।
ইইউ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ৩৯ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ গুনতে হবে যুক্তরাজ্যকে। সেই সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রায় ১৩ লাখ ব্রিটিশ নাগরিকের ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাজ্যে জোটের দেশসমূহের প্রায় ৩২ লাখ মানুষের অবস্থান কী হবে তা নিয়ে একমত হতে এ চুক্তি আনা হয়।
তবে মে’র অনেক প্রস্তাবই শুরু থেকে মেনে নিতে পারছিলেন না ব্রিটিশ এমপিরা। ব্রেক্সিটে ভূমিকা রাখা প্রভাবশালী কয়েকজন মন্ত্রীও পদত্যাগ করেন এ ইস্যুতে। এর মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ও ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিসও।
