জেলার বাউফল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার কে এম সোহেল রানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের নিয়মমাফিক তদারকি না করে নিজের খেয়ালখুশি মতো প্রতিবেদন দিচ্ছেন। সরকার মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিকভাবে পরিচালনা ও নিয়মিত তদারকি করার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তা ছাড়াও অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার নিয়োগ দেন। একজন উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাই জারের কাজ হচ্ছে কৃতিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা যা শিক্ষক তার ডায়েরিতে নিয়মিত কার্যক্রম লিপিবব্ধ করে রাখবেন। আর প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার সেই ডায়েরি তদারকি করবেন সুপারভাইজার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষকরা সরকারের সঠিক নির্দেশনা পালন করেন কি না, বিদ্যালয়ের নিয়মিত সমাবেশ হয় কি না, এসবের তদারকি করার দায়িত্ব তার। অথচ এক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতি অনুসরণ করেন না বাউফল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার কে এম সোহেল রানা।
বাউফল উপজেলায় ৬২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬৭টি মাদ্রাসা রয়েছে। এ মধ্যে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার কে এম সোহেল রানা একমাস তো দূরের কথা দশ মাসেও তার দেখা মেলে না। তারা জানান, তদারকি না থাকায় শিক্ষকরাও অনেকটা গা ছাড়া ভাব নিয়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। আর এ কারণে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষকদের অভিযোগ এই শিক্ষা কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের কাছে তারা অসহায়। এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার কে এম সোহেল রানা দাবি করেন তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে তিনি জানান, চলতি মাসে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন তিনি। তবে এরমধ্য থেকে দুইটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তারা পরিদর্শনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোহেল রানা যান না এমন অভিযোগ রয়েছে।
