১৪ দলের শরিকেরা বিরোধী দলে থাকলেই ভালো : কাদের

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:৪৪ পিএম

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “১৪ দলীয় জোট বিরোধী দলে থাকলে তাদের জন্যও ভালো আমাদের জন্যও ভালো। তারা তো বিরোধী দলে থাকবেন বলে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমার মনে হয় তাদের জন্য সেটাই ভালো।”

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিজয় সমাবেশ’ প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “নির্বাচনী জোট আর রাজনৈতিক জোট, এটা ভিন্ন জিনিস। ১৪ দলের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, সেটা হচ্ছে রাজনৈতিক জোটের সম্পর্ক। ১৪ দলের শরিকেরা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করলে সরকারের জন্যও ভালো।”

সঙ্গে যোগ করেন, “মহাজোট নামের যে বৃহত্তর জোট, সেটা কিন্তু নির্বাচনী ঐক্যজোট। যেহেতু ১৪ দলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রাজনৈতিক জোটের, কাজেই তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক থাকবেই।”

সেতুমন্ত্রী বলেন, “সংসদে তারা বিরোধী দলের আসনে বসলে এবং দায়িত্বশীল বিরোধিতা যদি করেন, সেটা সরকারের জন্য ভালো এবং তাদের জন্য ভালো।”

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন বিরোধী দলে গেলে ঐক্য থাকবে না, তারা সরকারেই থাকবেন। এই বক্তব্যের বিষয়ে কাদের বলেন, “রাজনৈতিক জোটের প্রশ্ন যখন আসে, তখন তো আমরা এক সঙ্গেই আছি। আমাদের জোট তো আমরা ভাঙিনি। এগুলো নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আরও আলোচনা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মহাজোট কিংবা ১৪ দলীয় জোটে কোনো প্রকার টানাপোড়েন নেই।”

১৪ দলের নেতারা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করুক, আওয়ামী লীগ চায় কি না? এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “তারা যদি সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেন এবং বিরোধী দল বিরোধী কণ্ঠ যত কনস্ট্রাকটিভ হবে, পার্লামেন্টে থাকবে, ততই সরকারি দল কোনো ভুল করলে সে ভুলটা সংশোধন করতে পারবে। কারণ বিরোধী দল না থাকলে তো একতরফা কাজ চলবে। বিরোধী দল থাকলে বিরোধিতা থেকে সরকারের কিছু শিক্ষণীয় বিষয় থাকবে। সমালোচনা থেকে শুদ্ধ হতে পারবে। সমালোচনা তো মানুষকে শুদ্ধ করে। সমালোচনা থেকে যদি কোনো ভুল হয়, তাহলে সে ভুল শুদ্ধ করতে পারবে।”

বিজয় সমাবেশের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “একটি বিশাল বিজয় সমাবেশ হবে। বিশাল বিজয়ের পরে আমরা সেভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করিনি। আমরা সংযম, সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করেছি। আমাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যাতে করে কোনো প্রতিহিংসার বিষয় না আসে, সে জন্য আমরা আমাদের নেত্রীর নির্দেশ আমাদের নেতা-কর্মীরা ধৈর্য এবং সংযম প্রদর্শন করেছে।”

বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিষয়ে কাদের বলেন, “বিএনপির আসলে এখন লেজে-গোবরে অবস্থা। তাদের ঐক্যফ্রন্টের এখন ভাঙনের সুর দেখা যাচ্ছে। তাদের দেখে ভয় হয়।”

তিনি আরও বলেন, “ফখরুল সাহেবের ইদানীং আচার-আচরণ দেখে তাকে এতটাই ভয়ংকর ড্রাইভার মনে হচ্ছে এবং বিএনপি নেতা-কর্মীদের কথাবার্তাও একই সুরের ছোঁয়া পাওয়া যাচ্ছে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত