কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাটারিং নির্মাণে প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার না করা এবং কারিগরি ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে।
তবে এ ঘটনায় কেউ মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম জহুরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাদের ঢালাই চলার সময় হঠাৎ নিচের সাটারিং ভেঙে ছাদ ধসে পড়ে। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখান থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় কুমারখালী উপজেলার চড়াইকোল গ্রামের বাসিন্দা বজলুর রহমান (৫৫) নামে এক শ্রমিক মারা যান। এছাড়া নিহত বজলুর রহমানের ছেলে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র গালিব (২৩), শাহবুদ্দিন (৪২), পলান মন্ডল (৬০), একই উপজেলার কয়া গ্রামের সোহেল (২৫) এবং চড়াইকোল গ্রামের ইউনুস আলী (৫৫) আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানায় কুষ্টিয়া মডেল থানা-পুলিশ।
চিকিৎসাধীন গ্রেন্ডিং মেশিন শ্রমিক শাহাবুদ্দিনের অভিযোগ, তিনতলার সমান উচ্চতার ওই ছাদ ঢালাইয়ে ঝুঁকিমুক্ত সাটারিং করতে যেসব সরঞ্জাম দরকার ছিল, সেগুলো ব্যবহার করা হয়নি। তাছাড়া ঢালাই শুরুর আগে সেটা ঝুঁকিমুক্ত বা কারিগরি ত্রুটি আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ফোরম্যান বা ইঞ্জিনিয়াররা। সাটারিং নির্মাণে কারিগরি ত্রুটি ছিল বলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নির্মাণ বাস্তবায়নকারী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল হান্নান জানান, নির্মাণাধীন হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ রেখেছিল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। হঠাৎ করে গণপূর্ত বিভাগকে অবহিত না করেই তারা ফের কাজ শুরু করেছে। এছাড়া ঢালাই শুরুর পূর্বে সাটারিং ঝুঁকিমুক্ত ছিল কিনা তা পরীক্ষা না করেই ঢালাই শুরু করেছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
প্রকল্প পরিচালক ডা. আশরাফুল হক দারা জানান, নির্মাণকালীন সময়ে অবশ্যই কোনো ত্রুটি ছিল বলেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এঘটনায় এক শ্রমিক নিহত ও ছয় শ্রমিক আহতের বিষয় নিশ্চিত করে আহতদের হাসপাতালে ভর্তিসহ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম জহিরুল ইসলাম জানান, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের নির্মাণাধীন হাসপাতাল ভবনের ফ্রন্ট-পাসের ছাদ ধসের ঘটনায় হতাহতদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।
শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন জানান, এঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আজাদ জাহানকে প্রধান করে প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে শুরু হওয়া কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পটি সম্পন্নের মেয়াদ ছিল তিন বছর। নির্মাণ শেষ করে ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ হস্তান্তরের কথা।
কিন্তু নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা,ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে আইএমইডির রিপোর্টে সত্যতা পাওয়ায় প্রকল্পটির অর্থায়ন সম্পূর্ণ স্থগিত করে দেয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। গত বছরের শেষভাগে আবার নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক জহুরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনের যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
