রেললাইনে স্লিপার ভাঙা পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ ট্রেন চলছে ঝুঁকি নিয়ে

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:৪৭ এএম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর থেকে দিলপাশার পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার রেললাইনের অসংখ্য স্থানের স্লিপার ভাঙা অবস্থায় আছে অনেক দিন ধরে। সেগুলো মেরামত না করায় ঝুঁকি নিয়ে এ পথে প্রতিদিন পশ্চিমাঞ্চলের ২৪টি ট্রেন চলাচল করছে। গত ২ সপ্তাহে স্থানীয়রা লালপতাকা উড়িয়ে দুবার ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে শত শত ট্রেনযাত্রীকে রক্ষা করেছেন। 

স্থানীয় স্টেশন মাস্টাররা দাবি করেন, এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানালেও তারা রেললাইন মেরামতে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এ রেললাইন দিয়েই প্রতিদিন পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলো চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর স্টেশনের অদূরে রেললাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণে গত ৫ জানুয়ারি ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি লাহিড়ীমোহনপুর স্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এতে এ পথে তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে এ রেলপথ মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।  স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ রেলপথের সিøপারগুলো ভাঙা রয়েছে। সিøপারের নিচের অনেক স্থানে পাথর সরে গেছে। অনেক স্থানে ক্লিপ ভেঙে গেছে। এমন বেহাল থাকার পরেও এ রেলপথটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নিচ্ছে না রেল কর্র্তৃপক্ষ। গত ২ সপ্তাহে অন্তত দুবার স্থানীয় লোকজন লালপতাকা উড়িয়ে বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার হাত থেকে শত শত যাত্রীকে রক্ষা করেছেন। আর এ সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন।

লাহিড়ীমোহনপুরের বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, ‘লাইন ভাঙা থাকায় আমরা স্থানীয় লোকজন মিলে গত দুই সপ্তাহে লালপতাকা উড়িয়ে ট্রেন থামিয়েছি। লাইন মেরামতের পর আবারও ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।’ একই গ্রামের লিয়াকত আলী জানান, লাইনের এমন অবস্থার কারণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা। অথচ এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ৭ কিলোমিটার রেললাইন মেরামত করা না হলে ট্রেন চলাচল প্রায়ই ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। এ ব্যাপারে লাহিড়ীমোহনপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুর রাজ্জাক রেললাইনের বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। রেলের প্রকৌশল বিভাগের লোকজন এসে দেখেও গেছে। খুব তাড়াতাড়ি মেরামতের আশ্বাস দিয়ে চলে গেছে। কিন্তু এখনো এ সমস্যার সমাধান হয়নি। তিনি আবারও কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়ে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত