ইভান্সের সেঞ্চুরিতে কুমিল্লাকে গুঁড়িয়ে দিল রাজশাহী

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ০৫:২৮ পিএম

অবশেষে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) কাটল সেঞ্চুরির খরা। রাজশাহী কিংসের ইংলিশ ব্যাটসম্যান লরি ইভান্স হাঁকালেন সেঞ্চুরি। যে সেঞ্চুরিতে ভর করে শুরুর বিপর্যয় কাটি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দেয় রাজশাহী। লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে একপর্যায়ে ভেঙে পড়ে কুমিল্লার ব্যাটিং। যেখানে আলো ছড়ালেন রাজশাহীর পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। শেষ পর্যন্ত অসহায় আত্মসমর্পণ ইমরুল কায়েসের দলের।

সোমবার বিপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচে ৩৮ রানের জয় তুলে নিয়েছে রাজশাহী। ইভান্সের সেঞ্চুরি ও রায়ান টেন ডেসকাটের ফিফটিতে ভর করে ৩ উইকেটে ১৭৬ রানের পুঁজি গড়ে দলটি। জবাব দিতে গিয়ে ১৮.২ ওভারে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় কুমিল্লা। ঢাকায় দুই দলের প্রথম দেখায় রাজশাহীকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল কুমিল্লা। সেই হারের দারুণ এক প্রতিশোধ নিল মিরাজের দল।

১৭৭ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে যে ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পেরেছে কুমিল্লা তা বলার উপায় নেই। তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয় ৫.৪ ওভারে যোগ করেন ৩৭ রান। যা দলের চাহিদা মিটাতে যথেষ্ট ছিল না মোটেও। ২৪ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ২৫ রান করে তামিম ফিরলে এই জুটির পতন হয়। তামিমকে মার্শাল আইয়ুবের হাতে ক্যাচ বানান কামরুল ইসলাম রাব্বি।

তৃতীয় উইকেটে শামসুর রহমান ও এনামুল বিজয় ৩০ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি। বিজয় ২৩ বলে ২৬ রান করেন। রায়ান টেন ডেসকাটের বলে শাহরিয়ার নাফীসের হাতে ক্যাচ হয়ে ফেরেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একটি করে চার ও ছক্কা। চার রানের ব্যবধানে ফিরে যান শামসুর রহমান শুভও। ১১ বলে এক ছক্কায় ১৫ রান করেন এই ব্যাটার। আরাফাত সানির বলে সেকুগে প্রসন্নকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

১০.১ ওভারে ৭১ রান যোগ করতে ৩ উইকেট হারানো কুমিল্লার জন্য জয়ের সমীকরণ কঠিন হলেও অসম্ভব ছিল না। বিশেষ করে শহীদ আফ্রিদি, থিসারা পেরেরার মতো ক্রিকেটার যখন রয়েছেন। কিন্তু সাত নম্বরে নেমে পেরেরা এদিন গোল্ডেন ডাক মারলেন। কায়েস আহমেদ শিকার বানালেন তাকে। এর আগেই জিয়াউর রহমান (১২) ও ইমরুল কায়েস (১৫) ফিরেছেন থিতু হয়ে। জিয়াকে ফেরান ডেসকাট। ইমরুলকে ফেরান কায়েস।

এরপরও আফ্রিদি ও লিয়াম ডসনের ব্যাটের তাকিয়ে ছিল কুমিল্লা। কিন্তু ১৮তম ওভারে দুই বলের ব্যবধানে এই দুজনকে তুলে নেন রাব্বি। ফেরান সাইফ উদ্দিনকেও। হ্যাটট্রিক না পেলেও চার বলে নিয়েছেন তিন উইকেট। ১০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করলেন রাব্বি।

আফ্রিদি ১৯ রানে বেশি করতে পারলেন না। আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে দুই ছক্কা ও এক চারে আফ্রিদির ঝড়ের আভাই দিয়েছিলেন। ডন ফেরেন ১৪ বলে ১৭ রান করে। সাইফউদ্দিন কোনো রান না করেই ফিরেছেন। পরের ওভারে মেহেদিকে ফিরিয়ে রাজশাহীর জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান।

রাব্বির ৪ উইকেট ছাড়াও দুটি করে উইকেট নিয়েছেন কায়েস আহমেদ ও ডেসকাট। ১টি করে উইকেট মোস্তাফিজুর রহমান ও আরাফাত সানির।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ২৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে রাজশাহী। এ ম্যাচেও সৌম্য সরকার, মুমিনুল হককে একাদশের বাইরে রাখে দলটি। শাহরিয়ার নাফীস ৫, মেহেদী হাসান মিরাজ ০ ও মার্শাল আইয়ুব ২ রান করে ফেরেন।

এরপর চতুর্থ উইকেটে ডেসকাটকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লার বোলারদের উপর তাণ্ডব চালান ইভান্স। দুজনে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে যোগ করেন ১৪৮ রান। তাতেই শুরুর ধাক্কা সামলে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দেয় রাজশাহী।

আগের ৫ ম্যাচে মাত্র ১৩ রান করা ইভান্স শেষ পর্যন্ত ১০৪ রানে অপরাজিত থেকে যান। তার ৬২ বলের ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ২ ছক্কা। ডেসকাট ৪১ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৫৯ রান করেন। এবারের আসরে এটিই প্রথম ফিফটি এই অলরাউন্ডারের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রাজশাহী কিংস: ২০ ওভারে ১৭৬/৩ (ইভান্স ১০৪*, ডেসকাট ৫৯*; ডসন ২/২০)।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ১৮.২ ওভারে ১৩৮ (তামিম ২৫, এনামুল ২৬, আফ্রিদি ১৯; রাব্বী ৪/১০, কায়েস ২/৪৬, ডেসকাট ২/১৫)।

ফল: রাজশাহী কিংস ৩৮ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: লরি ইভান্স।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত