সদ্যপ্রয়াত গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে তার সময়ের 'সেরা বাঙালি সুরকার' হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত গায়ক কবীর সুমন।
বুধবার রাতে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাসে কবীর সুমন লিখেছেন, ''আমার সময়ের এক সেরা বাঙালি সুরকার বাংলাদেশের আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল চলে গেলেন। পশ্চিমবাংলার অনেকে তাঁকে সহজেই চিনবেন 'সবকটা জানলা খুলে দাও না' গানটির সুরকার হিসেবে''।
কবীর সুমন আরো লিখেছেন, ''তিনি গান লিখতেন কি না ঠিক জানি না। তবে নানান স্মরণীয় গানের সুরকার যে তিনি তা জানি বিলক্ষণ। তার একটি হলো - 'সেই রেললাইনের ধারে।' মাঝি নাও ছাড়িয়া দে' গানটিও কি তাঁর সুর''?
দুই বাংলায় জনপিয় এ সঙ্গিতশিল্পী এর ব্যাখায় বলেছেন, 'বুড়ো মাথার বুড়ো স্মৃতি আর টানতে পারছে না'।
'আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আধুনিক বাংলা গানের সনাতন ঘরানার সুরকার ছিলেন' জানিয়ে কবীর সুমন লিখেছেন, 'এই গানের সুরতালছন্দ-বাঁধুনির ঐতিহ্যে তাঁর মন ছিল সম্পৃক্ত'।
মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ বাসায় হার্টঅ্যাটাক করেন বুলবুল। পরে আয়েশা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে সকাল সোয়া ৬টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
এরপর বুধবার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে স্মরণ করে কবীর সুমন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরো লিখেছেন, 'তেমনি, গানের সুর করার পাশাপাশি যন্ত্রাণুষঙ্গ রচনা নিয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য কাজ করে গিয়েছেন। বাংলাদেশের একাধিক নবীন সুরকারের ওপর তাঁর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
তাঁর সঙ্গে একবারই দেখা হয়েছিল আমার ঢাকায়। অনেক বছর আগে। সদালাপী, পরিহাসপ্রিয়, শিষ্টাচারী মানুষ। বিনয়ী। কয়েক মিনিটেই বুঝেছিলাম বন্ধুবৎসল।
বুলবুলের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু আধুনিক বাংলা গানের সুরকার ও শিল্পী হিসেবে তিনি তো দীর্ঘকাল আমার মনের প্রতিবেশী।
সত্যিকার এক গুণী সুরকার শিল্পীকে হারাল পৃথিবী। আমার আধুনিক গানের দুনিয়ায় আমি আরও একা হয়ে গেলাম। একই মহল্লার বাসিন্দা ছিলাম যে আমরা।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুন্দর, মননশীলতাপূর্ণ ও প্রাণবন্ত সৃষ্টি তাঁকে অমর করে রাখল।'
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। এর আগে বেলা ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমাগার থেকে বুলবুলের মরদেহ নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। সেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।
