বান্দরবানের লামা উপজেলায় অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা ৩৪ ভাটার ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ের মাটি আর পোড়ানো হচ্ছে বনের কাঠ। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে পরিবেশ-বিধ্বংসী এমন বেআইনি কাজ চললেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
গত ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি লামার ফাইতং, ফাঁসিয়াখালী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইটভাটার মাটি সংগ্রহ করতে গিয়ে এর মধ্যেই ছোট-বড় শতাধিক পাহাড় কাটা হয়েছে। আর পাহাড়ের মাটি পুড়িয়ে ইট বানানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বনজ কাঠ। এর ফলে অবৈধ এসব ইটভাটার আশপাশের এলাকা প্রায় বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া পাহাড়ের মাটি কাটার ফলে আসছে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ফাইতং এলাকার বাসিন্দা কৃষক জালাল আহমদ জানান, ইটভাটাগুলোতে মাটি এবং কাঠ পরিবহনের জন্য প্রতিদিন শত শত ট্রাক চলাচল করছে। এতে গ্রামের রাস্তাগুলো ভেঙে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে এসব ভাঙা রাস্তা চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে ২৪, ফাঁসিয়াখালীতে ছয়, গজালিয়ায় দুই, সরইতে এক এবং লামা পৌর এলাকায় একটি ইটভাটা তৈরি করা হয়েছে। এর একটিরও সরকারি অনুমোদন নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইটভাটা মালিক বলেন, ‘লামা উপজেলায় ১৩ ইটভাটা অন্যত্র সুবিধাজনক জায়গা পাওয়া সাপেক্ষে স্থানান্তর করার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে একটি আবেদন প্রক্রিয়াধীন। তবে এখনো আমাদের ইটভাটা বন্ধ করতে কেউ বলেনি।’ ফাইতং ইউপি চেয়ারম্যান মো. জালাল আহমদ জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে এসব ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। কেউ জমি লিজ দিলে চেয়ারম্যানের কিছু করার নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমদ বলেন, একই জায়গায় এতগুলো ইটভাটা গড়ে ওঠায় ব্যাপক বায়ু দূষণ হচ্ছে। এতে এলাকার বনজ ও ফলদ বাগানে বিরূপ প্রভাব পড়বে। তা ছাড়া বন্যপ্রাণীদের বেঁচে থাকাও কঠিন হয়ে যাবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব জানান, এসব ইটভাটা স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোনো ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। অবৈধ এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম।
