আগের দিন এক নার্সের স্বামীকে মারধরের জেরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীদের মধ্যে বিক্ষোভ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
নার্সের স্বামীকে মারধর ও হাতাহাতিতে জড়িত চতুর্থ শ্রেণির চার কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ও হাসপাতালের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকাল ১১টার মধ্যেই ঝামেলা মিটে গেছে। দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির খবর পেয়েই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীরা জানান, বুধবার সকালে হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফারহানা বেগম তার বাবাকে এ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোলজি বিভাগে ভর্তির জন্য নিয়ে আসেন। এসময় নার্স ফারহানার স্বামী আউটডোরে বসেছিলেন।
চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইসমাইল, শরীফ, জামাল ও রুবেল ফারহানার স্বামীকে মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ ভেবে তাকে চলে যেতে বলেন। এনিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ওই কর্মচারীরা ফারহানার স্বামীকে মারধর করেন।
স্বামীকে মারধরকারী কর্মচারীদের শাস্তি দাবিতে ফারহানা অভিযোগ করেন হাসপাতালের নার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের কাছে। বিষয়টি বৃহস্পতিবার জানাজানি হলে সকাল ১১টার দিকে নার্স অ্যাসোসিয়েশনের একজন নেত্রী হাসপাতালের ‘সি’ ব্লকে প্রবেশ করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের গালমন্দ করতে থাকেন। কর্মচারী রুবেল ও জামালকে সামনে পেয়ে চড়-থাপ্পড় মারেন।
এরপরই চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের একটি গ্রুপ এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে গেটে তালা লাগিয়ে দেয় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা। কর্মচারীরা ‘সি’ ব্লকের বাইরে আর নার্সরা ‘সি’ ব্লকের ভেতরে অবস্থান করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। ঘটনার খবর পেয়ে অন্য ব্লকের নার্সরাও এসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। পরে শাহবাগ থানার পুলিশ, হাসপাতাল প্রশাসন ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) নাজমুল করিম মানিক সাংবাদিকদের বলেন, সকালে দুপক্ষের মধ্যে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের চার কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
