শেরপুর সরকারি কলেজ এক দশকেও চালু হয়নি ছাত্রাবাস

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৩৮ পিএম

নির্মাণের ১০ বছর পরও বেকার পড়ে আছে শেরপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রাবাস। ২০০৯ সালে ছাত্রাবাসটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও এখনো এর সুবিধা পাচ্ছে না ছাত্ররা। কলেজ কর্র্তৃপক্ষ বলছে গ্যাস সংযোগ না থাকায় ছাত্রাবাসটি চালু করা যাচ্ছে না। তিতাস গ্যাস কর্র্তৃপক্ষ বলছে সরকারিভাবে গ্যাসের নতুন সংযোগ চালু না থাকায় ছাত্রাবাসে সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে, গ্যাসের বিকল্প ব্যবস্থা করে দ্রুত ছাত্রাবাস চালুর আশ্বাস দিয়েছেন কলেজটির অধ্যক্ষ।  সম্প্রতি সরেজমিনে গেলে এসব তথ্য উঠে আসে।

জানা যায়, ১৯৬৪ সালে শেরপুর সরকারি কলেজ স্থাপনের পর ১৯৮০ সালের মার্চে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। কলেজে অধ্যয়নরত প্রায় ৬ হাজার ৮৯৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ শতাংশই ছাত্র।  ছাত্রদের সুবিধার্থে কলেজ ক্যাম্পাসেই ২০০৭ সালে শুরু হয় শেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রাবাস নির্মাণকাজ। জেলা শিক্ষা প্রকৌশলীর অধীনে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০০ শয্যা বিশিষ্ট এই ছাত্রবাসের নির্মাণকাজ ২০০৯ সালে শেষ হলে কলেজ কর্র্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে সকল সরঞ্জাম ক্রয় ও স্থাপন করা হলেও গ্যাসের সংযোগ না থাকায় আর চালু করা হয়নি ছাত্রাবাসটি। ফলে ছাত্রাবাসটির সুবিধা পাচ্ছে না ছাত্ররা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিন থেকে ১০০ শয্যা ছাত্র হোস্টেল করা হয়েছে কিন্তু এর কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। যা এখন পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। যারা দূর-দূরান্ত থেকে এসে এই কলেজে পড়াশোনা করে তারা যেন হোস্টেলে থেকে সুন্দরভাবে তাদের পড়াশোনার কার্যক্রম করতে পারে।

অনার্সে ইংরেজি বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী নূর ইসলাম আকাশ বলেন, যদি ছাত্র হোস্টেলটা চালু হয় তাহলে ছাত্রদের শিক্ষা ও সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমে কলেজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়বে।

ওই কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ছাত্রাবাসটির তত্ত্বাবধায়ক আব্দুর রাজ্জাক খান বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০১০ সালে গ্যাস সংযোগের জন্য কলেজ কর্র্তৃপক্ষ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে। কিন্তু তিতাস কর্র্তৃপক্ষ গ্যাস সংযোগ দেয়নি।

এদিকে শেরপুর তিতাস গ্যাসের ম্যানেজার বিকাশ চন্দ্র রায় বলেন, সরকারি ঘোষণায় নতুন সংযোগ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ছাত্রবাসে গ্যাস সংযোগ দেওয়া যায়নি।  পরবর্তী সময়ে নতুন সংযোগ দেওয়া চালু হলেও কলেজ কর্র্তৃপক্ষ কোনো আবেদন দেননি। তবে এবার পুনরায় চালু হলে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রাবাসে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে।

শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ছারওয়ার জাহান বলেন, ছাত্রাবাসটি গ্যাসের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। গ্যাস সংযোগ পাওয়া না গেলেও বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্রাবাসটি চালুর ব্যবস্থা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত