চূড়ান্ত প্রতিবেদন

কলেজ শিক্ষিকাকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেন ব্যাংক কর্মকর্তা

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:৩৭ পিএম

ফরিদপুরে এক কক্ষে কলেজ শিক্ষিকা ও ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ পাওয়ার ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।

প্রতিবেদনে ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক হাসান (৩৩) তার প্রেমিকা কলেজ শিক্ষিকা সাজিয়া বেগমকে (৩৪) হত্যার পর নিজে ফ্যানের সঙ্গে নাইলনের দড়ি গলায় ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। একই প্রতিবেদনে এ মামলার এক মাত্র আসামি নিহত সাজিয়ার স্বামী শেখ শহীদুলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার বিকেলে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) বিপুল দে ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতে বিচারিক হাকিম অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মাসুদ আলীর আদালতে এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এফ এম নাসিম বলেন, এ হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদনে কলেজ শিক্ষিকা সাজিয়া বেগমকে হত্যা ও ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক হাসানের আত্মহত্যা সম্পর্কিত মৃত্যু বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে। পরে ওই ঘরে তৃতীয় কিংবা তার অধিক কোনো ব্যক্তির উপস্থিত ছিল কিনা তা জানার জন্য ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ডিএনএ প্রতিবেদনে ওই কক্ষে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিত প্রমাণিত হয়নি।

তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং এ মামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গকে জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার হওয়ার পর সাজিয়ার স্বামী শহীদুলকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছর ৬ মে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলী মহল্লার নূরুল ইসলামের দোতলা বাড়ির নিচ তলার একটি কক্ষ থেকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় সাজিয়ার লাশ এবং সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে গলায় নাইলনের রশি বাঁধা ফারুকের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ৭ মে রাতে নিহত সাজিয়ার ফুপু আফসারী আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত কলেজ শিক্ষিকা সাজিয়া বেগম ফরিদপুর সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি (সাজিয়া) ঢাকার সুত্রাপুর থানার বানিয়ানগর মহল্লার শেখ শাজাহানের মেয়ে এবং ওই একই এলাকার শেখ শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। সাজিয়া এগারো ও সাড়ে চার বছর বয়সী দুই ছেলের মা।

ফারুক সোনালি ব্যাংক ঢাকার মতিঝিল শাখার প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত