কাতারের অভিবাসী শ্রমিক শুক্রবার ওদের ফ্যাশনের দিন

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:২৮ এএম

অভিবাসী সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে নির্মাণসহ বিভিন্ন শিল্পে কাজ করেন পৃথিবীর নানা প্রান্তের শ্রমিকরা। কারখানা কিংবা কর্মস্থলে তাদের বেশিরভাগকেই নির্দিষ্ট রং কিংবা বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরতে হয়। ফলে পোশাকে বৈচিত্র্য থাকে না তাদের। এই একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে ব্যতিক্রমী একটি উদ্যোগ নিয়েছেন কিছু শ্রমিক। তারা প্রতি শুক্রবার নিজের পছন্দের জামা পরে হাজির হন রাজধানী দোহার সাগরের পাশে উন্মুক্ত স্থানগুলোতে।

আলজাজিরার খবরে জানানো হয়, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সবচেয়ে সুন্দর জামা পরে অবকাশে বের হন অভিবাসী শ্রমিকরা। ওইদিনই তাদের আলাদা করা যায়।

কাতারের একটি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণশ্রমিক নেপালের নাগরিক আকাশ। প্রায় পুরো সপ্তাহ নীল জামা পরে কাজ করা এ যুবক আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমি আমার (কর্মস্থলের) পোশাক পছন্দ করি না। এখন যা পরে আছি, সেটি পছন্দ করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িতে সবারই নিজস্ব পছন্দের অনুভূতি আছে।’

দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করেন পাকিস্তান থেকে যাওয়া শহিদ সুলতান। গত শুক্রবার চেক শার্ট ও নীল জ্যাকেট পরা এ অভিবাসী বলেন, ‘আমরা নামাজের পর প্রতি শুক্রবার (দোহার সাগরতীর) আসি।’

নিজের আয়ের অর্থে পরিবারের খরচ জোগান শহিদ। করাচিতে ফিরে গিয়ে মডেল হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। কাতারের জীবনযাপন নিয়ে এ যুবক বলেন, ‘এখানে পোশাক খুবই দামি। আমি মনে করি না, আজ (শুক্রবার) আমাদের শপিং মলে ঢুকতে দেওয়া হবে। এ কারণে আমরা এখানে আসি।’

কাতারে প্রায় ২০ লাখ বিদেশি শ্রমিক আছেন। তাদের বড় অংশ দক্ষিণ এশীয়। এ অভিবাসীরা মোট জনগোষ্ঠীর ৮০ শতাংশের বেশি।

শুক্রবার দেশটিতে অবিবাহিত, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিকদের ‘পারিবারিক এলাকা’ হিসেবে পরিচিত জনসমাগমস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত