বলিউড অভিনেতা নাসিরউদ্দিন শাহ এবং আমির খানকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) এক শীর্ষ নেতা। এমনকি তাদেরকে ‘মীর জাফর’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, সোমবার উত্তর প্রদেশের আলীগড়ে এক জনসভায় কট্টর হিন্দুবাদী সংগঠন আরএসএসের প্রভাবশালী নেতা ইন্দ্রেশ কুমার বলেন, ‘তারা ভালো অভিনেতা হতে পারেন, কিন্তু তারা বিশ্বাসঘাতক, তারা সম্মান পাওয়ার যোগ্য নন।’
বক্তব্যে তিনি দেশটির সাবেক ক্রিকেটার কংগ্রেস নেতা নভজোৎ সিং সিধুকেও আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘তারা মীরজাফর ও জয়চন্দের মতো।’
দলের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় কংগ্রেসে যোগ দেন সাবেক বিজেপি নেতা সিধু।
এর আগেও বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরউদ্দিন শাহ আরএসএসের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন। বুলন্দশহরের গো-হত্যার গুজবে সৃষ্ট সংঘর্ষে ইন্সপেক্টর সুবোধ কুমার সিংকে হত্যার পর তিনি বলেছিলেন, ‘এই দেশে এখন পুলিশের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গরুকে। এরপরই তাকে ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যা দেয় আরএসএস ও বিজেপি।
এদিকে মহাভারত নিয়ে আমির খান সিনেমা বানানোর ঘোষণা দিতেই ক্ষেপে গেছে হিন্দুবাদী সংগঠনগুলো। একজন মুসলিম মহাভারত নিয়ে নিয়ে সিনেমা বানাবেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না তারা। এছাড়া পিকে সিনেমায় হিন্দু দেবতাদের নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করায় আগে থেকে তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল তারা।
উত্তরপ্রদেশের বিজেপির প্রধান মহেন্দ্রনাথ পান্ডে বলেন, ‘একটি সিনেমায় নাসিরউদ্দিন একজন পাকিস্তানি এজেন্টের ভূমিকায় অভিনয় করেন। আমি মনে করি, তিনি এখন ওই চরিত্রের মতোই হয়ে উঠছেন।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের বলিউডের সরফরোশ সিনেমায় নাসিরউদ্দিন শাহ পাকিস্তানের গুপ্তচরের ভূমিকায় অভিনয় করেন।
আরএসএস নেতা ইন্দ্রেশ কুমার আরও বলেন, ‘ভারতের এখন সাবেক প্রেসিডেন্ট এপিজে আবদুল কালামের মতো মুসলমানদের প্রয়োজন, সন্ত্রাসবাদী আজমল কাসাবের মতো নয়। মুসলিম যুবকদের কালামের দেখানো পথই প্রয়োজন। নয়তো তারা কাসাবের পথে হাঁটবে এবং বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বিবেচিত হবে।’
