সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন দিতে হবে। কারণ এই নির্বাচনে হাজার হাজার মানুষকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছিল’।
একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রতিবাদে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
জাতীয় নির্বাচনের পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে এই মানববন্ধনে যোগ দিতে সকাল ১০টার দিক থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী নেতাকর্মীরা সবাই ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও, কোনও আটকের খবরও পাওয়া যায়নি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে থেকেই জনগণ যেন অংশগ্রহণ করতে না পারে সে জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়েছে। প্রায় এক বছর আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একইভাবে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে তারা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে বাকশালের নামে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল। ঠিক একই কায়দায় আজকে তারা জনগণের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়ে, গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে একদলীয় দখলদারির সংসদ গঠন করেছে।
খালেদা জিয়াসহ যাদের মিথ্যা মামলায় আটক রাখা হয়েছে তাদের মুক্তি দাবি করে ফখরুল বলেন, দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে অধিকার রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংসদকে বাতিল করে একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নতুন সরকার গঠন করতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ২৯ ডিসেম্বর রাতে প্রশাসন ও আওয়ামী বাহিনী ভোট ডাকাতি করেছে। এ দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে বিএনপি।
ভোট ডাকাতি করে অলিখিত বাকশাল কায়েম করা হয়েছে দাবি করে মোশাররফ বলেন, এ সরকার ও সংসদ দেশের জনগণ মানে না।
দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জানান, নির্বাচন নিয়ে তথ্যভিত্তিক একটি শ্বেতপত্র বের করা হবে। এতে মানুষ দেখবে জনগণ ভোটাধিকার হারিয়েছে। এই নির্বাচনে ৫-৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে পেরেছে। প্রশাসন-পুলিশ নির্বাচন করেছে, এতে জনগণের কোনও সম্পৃক্ততা ছিল না।
মানববন্ধনে একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ নয় মন্তব্য করে আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচনের দাবি জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, আব্দুস সালাম প্রমুখ। মানববন্ধন পরিচালনা করেন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ।
