মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সড়ক নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৫৩ পিএম

সড়কের নির্মাণকাজে ঠিকাদার অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ অব্যাহত রাখার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৩নং ভাদুর ইউনিয়নের সমেষপুর এবাদ উল্যা মিঝি বাড়ি থেকে পঁচা মার্কেট পর্যন্ত রাস্তার কাজ চলছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় নির্মাণাধীন সড়কে মানববন্ধনটি করা হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা রাশেদুল ইসলাম, শিক্ষক আ. জলিল, সমাজকর্মী ফারুক হোসেনসহ অনেকে জানান, ৩/৪ মাস পূর্বে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সড়কটি নির্মাণকাজ শুরু করেন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায়, সড়কটির তদারকির কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী তহির উদ্দিনকে ম্যানেজ করে সিডিউলের তোয়াক্কা না করে  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলশান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হাবিবুর রহমান ইচ্ছামতো রাস্তার বক্স-কাটিং-২২ ইঞ্চির স্থলে ১৬ ইঞ্চি গভীরতায় উচুনিচুভাবে বক্স-কাটিং করে বালি ফেলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখে। ফলে এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী স্কুল মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন।

সিডিউল অনুযায়ী বালিতে পানি দিয়ে ও রোলিং করে, মেশিনে ভাঙানো ইটের কণা ৫০ শতাংশ এবং মোটা বালি ৫০ শতাংশ মিশ্রিত সাব-বেইস তৈরি করার কথা থাকলেও কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের হাতে ভাঙানো ইটের টুকরা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ, সঙ্গে ধুলাবালু ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ দিয়ে সাব-বেইসের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এভাবে কাজ করলে অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তাটি নষ্ট হয়ে মানুষ আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে। উক্ত সড়কে চলাচলরত স্থানীয় লোকজন সাব-বেইস উঠিয়ে সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১২শ’ মিটার দৈর্ঘ্য সড়কটির ৪৬ লক্ষ টাকায় ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে টেন্ডার হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গুলশান এন্টার প্রাইজ মালিক হাবিবুর রহমান হাবিব।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলশান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান জানান, এলজিইডির কাজ কতভাগ করা সম্ভব তা আপনারাই ভালো জানেন। স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারসহ কর্তৃপক্ষ যদি টাকা নেয় তাহলে দুইশ’ মানববন্ধন করেও লাভ হবে না।

রামগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী তহির উদ্দিন জানান, মানববন্ধন করলে যদি রাস্তার কাজ ঠিকমতো হয় তাহলে এলাকাবাসী মানববন্ধন করুক। এতে আমাদের কিছু যায় আসে না।

উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শিফাত আহম্মেদ জানান, এ কাজের এখনো কোনো অংশের বিল দেওয়া হয়নি। তদন্ত করে অনিয়ম থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহীদ হোসেন ভূইয়া জানান, আমি স্থানীয় গ্রামবাসীর কাছ থেকে বিষয়টির ব্যাপারে জেনেছি। কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া যাবে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত