শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সরব শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৫৩ এএম

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী কলেজে ২৭ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন। ১৯৯১ সালের পর আর কোনো নির্বাচন হয়নি নামকরা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে। এতে করে নিজেদের প্রাপ্য সুবিধা ও অধিকার আদায়, ছাত্ররাজনীতি এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চাসহ নানামুখী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এখানকার শিক্ষার্থীরা। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার পর এখানেও দ্রুত নির্বাচনের দাবি তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে।

১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবিভক্ত বাংলার অনেক শীর্ষ নেতা পড়েছেন যারা ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা ব্রিটিশ ও পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাদের মধ্যে অনেকে আবার ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে নির্বাচন বন্ধ থাকার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে দায়ী করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনগুলোও অনেক সময় নির্বাচনে আগ্রহ দেখায় না। এছাড়া নির্বাচনে জনপ্রিয়তা প্রমাণিত না হওয়ার ভয়েও নির্বাচন হতে দেয় না তারা।

শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য ছাত্র সংসদ অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে যারা নেতৃত্বে যায় তারা সাধারণ ছাত্রছাত্রীর জন্য কথা বলতে পারে। আমরা একটি ছাত্রসংগঠনের দায়িত্বে আছি। কিন্তু যে সংগঠনের দায়িত্বে আছি সে সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যা বা দাবি নিয়ে আমাদের কাছে আসেন না। আবার অনেক সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করেন। কিন্তু ছাত্র সংসদ থাকলে তা হবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হবিবুর রহমান বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধসহ যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। আমরাও চাই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হোক। তবে আমরা তাকিয়ে আছি ডাকসু নির্বাচনের দিকে। সেখানে যদি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়, তাহলে আমরাও এটা নিয়ে সামনে এগোব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত