সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সবার সেরা রংপুর রাইডার্স

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৪ এএম

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা হেরে বসেছিল এবারের বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে। তারপর জয়ে ফিরেও আবার টানা হারে বিপর্যস্ত হয়েছিল। অতঃপর ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা ছয় ম্যাচ জিতে শেষ করল গ্রুপ পর্ব। কোয়ালিফায়ার আগেই নিশ্চিত ছিল। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে নিয়ে একরকম ছেলেখেলাই করেছে চ্যাম্পিয়নরা। তাদের গুঁড়িয়ে দিয়ে নিশ্চিত করেছে কোয়ালিফায়ারের শীর্ষ স্থান। শুরুর নড়বড়ে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার রংপুরই তাই গ্রুপপর্বে সবার সেরা। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে রানরেটে (১.০১৮) কুমিল্লার চেয়ে এগিয়ে থেকে পয়েন্ট টেবিলের চূড়ায় রংপুর। গতকাল শেষ হলো এই পর্ব। কুমিল্লারও ১২ ম্যাচে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট। কিন্তু রানরেটে (০.০৬৬) দ্বিতীয় তারা। এই দুই দল আবার মুখোমুখি হচ্ছে ৪ ফেব্রুয়ারি, প্রথম কোয়ালিফায়ারে। ওই ম্যাচের বিজয়ী সরাসরি খেলবে ফাইনালে। হারা দলের জন্য সুযোগ থাকবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জিতে ফাইনালে যাওয়ার।

দুর্ধর্ষ ফর্মে থাকা ইংলিশম্যান অ্যালেক্স হেলস ইনজুরি নিয়ে দেশে ফিরে গেছেন। ক্রিস গেইলেরও ফর্মের দেখা নেই। রংপুরের ভাগ্য এতদিন যে ভয়ঙ্কর চারে নির্ভরশীল তার আধেকটা এমন। এই অবস্থায় টস হেরে শঙ্কার সব কালো মেঘ আসলে রংপুরের বোলাররাই উড়িয়ে দিয়েছেন। ইনিংস শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচের জয় একপ্রকার নিশ্চিত করে রেখেছেন। তাদের আগ্রাসী বোলিংয়ে ১৭ তম ওভারে ৭২ রানে অল আউট তামিম ইকবালদের সাবেক চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা। এটা বিপিএলের ইতিহাসের অষ্টম সর্বনিম্ন স্কোর। কুমিল্লার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। এরপর ক্রিস গেইল ৩৫ ও এবি ডি ভিলিয়ার্স ৩৪ রানে অপরাজিত থেকে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছেন। ইনিংসের অর্ধেকটাই খেলতে হয়নি রংপুরের। ৬৩ বল হাতে রেখে একপেশে বিশাল জয়।

ফেভারিট কুমিল্লাকে শুরু থেকে রংপুরের বোলাররা ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলতে থাকেন। অফ স্পিনার নাহিদুল ইসলাম নতুন বল পেয়েছিলেন। চমক। কিন্তু দ্বিতীয় বলেই বিপজ্জনক তামিম (০) আউট। ম্যাচের তৃতীয় ওভার থেকে প্রতিপক্ষের ইনিংসের মড়ক ধরানোর শুরু নাহিদুলের হাতেই। অন্য ওপেনার এনামুল হক বিজয় (৫) ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। ওখান থেকে ১৬ বলে ৭ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারানোয় মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে যায় কুমিল্লার। ক্যাপ্টেন মাশরাফী পর পর দুই ওভারে দুই ইনফর্ম ইমরুল কায়েস (০) ও ভয়ঙ্কর থিসারা পেরেরাকে (৩) শিকার করেছেন। ৭০ শিকার নিয়ে বিপিএল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি মাশরাফী। এবারের আসরে হলো ১৯ উইকেট।

 ২৩ রানে ৫ উইকেট নেই। কুমিল্লার সর্বনিম্নের রেকর্ড ৬৩। লজ্জার হাত থেকে বাঁচতে জিয়াউর রহমান (২১) ও লিয়াম ডসন (১২) লড়াই করতে চান। কিন্তু ডসনের স্বদেশি রবি বোপারা হামলে পড়েন দ্বাদশ ওভারে। দলের ৫৬ রানে জোড়া উইকেট হারায় কুমিল্লা। বোপারা হ্যাটট্রিকের সুযোগ মিস করেন। অবশ্য পরের ওভারে ডসনকেও তুলে নেন। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমে টিনএজার মিনহাজুল আবেদিন নান্নুও এক উইকেট নেন। তবে ম্যাচের সেরা বোপারা ৩ ওভারে ৭ রানে ৩ উইকেটের কীর্তিতে।

কুমিল্লার স্কোরবোর্ডকে দুখী লাগে। সেই দুঃখ বাড়িয়ে দেন গেইল। সহজ শিকার এবার আর হননি। ৩০ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় জয় নিয়ে ফিরেছেন। এটা ছিল এবারের আসরে ‘মিস্টার থ্রি সিক্সটি’ ডি ভিলিয়ার্সের শেষ ম্যাচ। বিপিএলে নট আউট থেকেই বিদায় নিলেন আগামী আসরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। ২২ বলে খেলা তার ৩৪ রানের ইনিংসের চমৎকার চারটি চার ও ২টি ছক্কা।

গেল আসরের মতো শেষের দিকে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে রংপুর। টানা শিরোপা জয়ের লক্ষ্যটা পূরণ হবে তো?

সংক্ষিপ্ত স্কোর

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স : ৭২ (১৬.৩ ওভার) (জিয়াউর রহমান ২১, ডসন ১৮, শামসুর ১২, সালামখেইল ৬*, তামিম ০, ইমরুল ০, পেরেরা ৩; বোপারা ৩/৭, নাহিদুল ২/৯, মাশরাফী ২/১৮, মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদি ১/৮)।

রংপুর রাইডার্স : ৭৬/১ (৯.৩ ওভার) (গেইল ৩৫*, ডি ভিলিয়ার্স ৩৪*, মারুফ ৫; সঞ্জিত ১/৩২, আবু হায়দার ০/১১, সালামখেইল ০/৩৩)।

ফল : রংপুর রাইডার্স ৯ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা : রবি বোপারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত