রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আবজালের ভাই লিয়াকত

গ্রামেই শতকোটি টাকার সম্পদ তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৪৪ এএম

এবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেই আলোচিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আবজালের আরেক ভাই ও তার স্ত্রীর নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার ভাই লিয়াকত হোসেন জুয়েল ঢাকার মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের অ্যাজমা সেন্টারের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী (হিসাবরক্ষক)। বেতন মাত্র ২৫ হাজার টাকা। অথচ কেবল গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরেই নামে-বেনামে শতকোটি টাকার সম্পদ রয়েছে তার। এর বাইরে আরও কোনো সম্পদ রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করছে দুদক।

এ ব্যাপারে দুদকের উপপরিচালক শামসুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেদিন জিজ্ঞাসাবাদে উনি (লিয়াকত হোসেন জুয়েল) তো কিছু স্বীকার করলেন না। তবে আমাদের কাছে তার অবৈধ সম্পদের তথ্য আছে। আমরা আরও অনুসন্ধান করছি।’

কথা বলার জন্য লিয়াকতকে পাওয়া যায়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ফরিদপুরে লিয়াকতের ভাই বেলায়েত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ৩১ জানুয়ারি দুদক তাদের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল। সেখানে তারা পারিবারিক বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।

মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের অ্যাজমা সেন্টারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম তুহিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। তবে তার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা আসেনি। ফলে উনি এখনো চাকরি করছেন।

গত ৩১ জুলাই আবজালের দুই ভাই ও তিন শ্যালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এদেরই একজন এই লিয়াকত হোসেন জুয়েল। অন্য চারজনের মধ্যে আরেক ভাই ফরিদপুর টিবি হাসপাতালের ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট বেলায়েত হোসেন এবং তিন শ্যালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক রকিবুল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী বুলবুল ইসলাম এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অফিস সহকারী শরিফুল ইসলাম।

অ্যাজমা সেন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভাই আবজাল হোসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমকর্তা হওয়ায় সে প্রভাবকে কাজে লাগান লিয়াকত। কেবল এই হাসপাতালেরই নয়, যে কোনো হাসপাতাল বা কেনাকাটার অর্থ ছাড় করতে হলে এই চক্রকে ঘুষ দিতে হয়। এমনকি এদের বিরুদ্ধে নানাভাবে অর্থ জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে।

এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও বলেন, লিয়াকত হোসেন জুয়েল ২০০৩ সালে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে হিসাব সহকারী পদে যোগ দেন। শুরুর দিকে বেতন ছিল ১৫ হাজার টাকার মতো। গত ১৫ বছরে তা বেড়ে এখন ২৫ হাজার হয়েছে। অথচ এই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এখন অঢেল সম্পদের মালিক। এই সূত্র ধরেই গত ৩১ জানুয়ারি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

দুদকের কর্মকর্তা এবং পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুরে লিয়াকত হোসেন বেশ কয়েকটি আলিশান বাড়ি, গাড়ি, ব্রিক ফিল্ড, জমি, কার্গো জাহাজ ও বাগানবাড়ির মালিক। এসব সম্পদ তিনি স্ত্রী, বোন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে করেছেন।

এসব কর্মকর্তা ও পরিবারের লোকজন জানান, ফরিদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে লিয়াকতের বিপুল পরিমাণ সম্পদ। শহরের টেপাখোলায় লক্ষ্মীপুর এলাকায় আলিশান একটি বাড়ি রয়েছে তার স্ত্রীর নামে। একই এলাকার ফরিদাবাদে ‘মাহি মাহাদ ভিলা’ নামে রয়েছে অপর একটি দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। সেখানে বসবাস করেন লিয়াকত হোসেন জুয়েলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ছাড়া শহরতলির বায়তুল আমান এলাকায় রয়েছে পাঁচ কাঠার একটি আবাসিক প্লট, সেটিও তার স্ত্রীর নামে।

ফরিদপুরের নর্থ-চ্যানেল গোলডাঙ্গী চরে এলঅ্যান্ডএমএম নামে রয়েছে লিয়াকতের একটি ইটভাটা। এ ছাড়া সিঅ্যান্ডবি ঘাটের ওপারে নাজিরপুরে এঅ্যান্ডআর ব্রিকস নামে আরেকটি ইটভাটা রয়েছে তার, সেটি বড় বোনের নামে করা।

এদিকে সিঅ্যান্ডবি ঘাটের বাজারে রয়েছে ১৭ শতাংশ জমিতে আরও একটি দোতলা ভবন। ফরিদপুর শহরের ভাটি লক্ষ্মীপুরে ২৪ কাঠা জমিতে রয়েছে একটি বাগানবাড়ি। শহরতলির আমোদপুর এলাকার বেরহমপুর মৌজায় ১৭ বিঘা জমি রয়েছে, সেটিও তার স্ত্রীর নামে। ছোট কার্গোজাহাজ রয়েছে ১৬টি, যা তার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনদের নামে রয়েছে।

এ ছাড়া পারিবারিকভাবে ব্যবহার করার জন্য লিয়াকত হোসেন জুয়েলের রয়েছে আধুনিক মডেলের প্রিমিও ব্র্যান্ডের তিনটি প্রাইভেটকার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত