সেই পেস ব্যাটারি নেই, দলের অধিনায়কও ক্লাইভ লয়েড নামের কেউ নন, ভিভ রিচার্ডসের মতো কোনো এক কিংবদন্তি চুইংগাম চিবোতে চিবোতে প্রতিপক্ষ বোলারদের খুন করছেন না, অথচ জয়টা ওরকম ভুবনজয়ী দলের মতো দৃপ্ত ভঙ্গিতেই তুলে নিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাহলে কি আবার সুদিন ফিরে এলো? ইংল্যান্ডকে তিন দিনে উড়িয়ে দেওয়া উইন্ডিজের ১০ উইকেটে জয় দেখে যারা তেমনটা ভাবছেন তাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটুকু বলার জন্য অপেক্ষার দরকার নেই যে ক্যারিবীয়রা গর্ব করার মতো একটা টেস্ট সিরিজ জিতে নিয়েছে। কতদিন পর? শুধু ইংল্যান্ডকে ধরলে ১০ বছর। ২০০৯ সালে টেস্ট সিরিজে শেষবার ইংলিশদের হারিয়েছিল তারা।
বার্বাডোজে ৩৮১ রানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে তিন টেস্ট সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। এরপর অ্যান্টিগা টেস্ট ১০ উইকেটে জয়। এভাবে ইংলিশদের টানা দুই টেস্টে আর কবে হারিয়েছে উইন্ডিজ? সেই ১৯৯৪ সালে। মাইক আথারটনের ইংল্যান্ডকে। পাঁচ টেস্টের সেই সিরিজ ৩-১-এ জিতেছিল উইন্ডিজ। তবে এবারের সিরিজ জয় গুরুত্বপূর্ণ অন্য কারণে। ২০১২ সালে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর জিম্বাবুয়ে আর বাংলাদেশের বিপক্ষে ছাড়া বলার মতো কোনো টেস্ট সিরিজ জেতেনি তারা। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে ২০০৯ সালে। শ্রীলঙ্কাকে ২০০৩ সালে। এক দশক পর সেই ইংল্যান্ডকে হারিয়েই উইজডেন ট্রফি ঘরে ফেরাল উইন্ডিজ।
অ্যান্টিগাতে গতকাল প্রথম ইনিংসে ৩০৬ রানে অল আউট হয় জেসন হোল্ডারের দল। ১১৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ইংলিশরা। কেমার রোচের ঝড়ের মুখে ফের মুখ থুবড়ে পড়ে নাম্বার ওয়ান টেস্ট দল। এবার সফরকারীরা ১৩২ রানে অল আউট। র্যাংকিংয়ের আট নম্বর দলকে মাত্র ১৪ রানের টার্গেট দিতে পেরেছিল জো রুটরা। মাত্র ২.১ ওভারে তা তুলে নেন ক্রেগ ব্রাফেট ও জন ক্যাম্পবেল। তৃতীয় দিন ১৪৭ টেস্ট খেলা জেমস অ্যান্ডারসনকে ছক্কা মেরে ক্যাম্পবেলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ার প্রতীকী তাৎপর্য আছে। মাত্র দুই টেস্ট খেলেছেন এ ক্যারিবীয় ওপেনার। সামনে তার সুদীর্ঘ ক্যারিয়ার। ধরে নেওয়া যায় উইন্ডিজ ক্রিকেট এদের হাতে সুরক্ষিত। আলজারি জোসেফরা পথ দেখাবেন। মায়ের মৃত্যু শোক ভুলে যিনি খেলতে পারেন। তাকে ক্রিকেট কিছু ফিরিয়ে দেবে তাই তো স্বাভাবিক। হোল্ডার জয় উৎসর্গ করেছেন জোসেফের মায়ের নামে। এরপর বলেছেন, ‘আমারা জেতার জন্য ক্ষুধার্ত ছিলাম।’ কতটা ক্ষুধার্ত তা দুই ইনিংসে ৮ উইকেট নিয়ে বুঝিয়েছেন কেমার রোচ। তিনি শুধু একা নন, আসলে পুরো উইন্ডিজ দলের ক্ষুধার আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে ইংল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস : ১৮৭ ও ২য় ইনিংস : ১৩২ (বাটলার ২৪, ডেনলে ১৭, বার্নস ১৬, বেয়ারস্টো ১৪, ফোকস ১৩, কারেন ১৩; রোচ ৪/৫২, হোল্ডার ৪/৪৩, জোসেফ ২/১২)।
উইন্ডিজ ১ম ইনিংস : ৩০৬ ও ২য় ইনিংস : ১৭/০ (ব্রাফেট ৫*, ক্যাম্পবেল ১১*)।
ফল : উইন্ডিজ ১০ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : কেমার রোচ।
সিরিজ : তিন টেস্ট সিরিজ ২-০-তে এগিয়ে উইন্ডিজ।
