শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পুলিশের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

নিরীহ জনগণ যেন হয়রানি না হয়

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩২ এএম

দেশের পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, দেশের নিরীহ জনগণ যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার না হয়, এ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। কোনো হয়রানি হলে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করাÑ এটাই আপনাদের কর্তব্য, এটাই জনগণ আপনাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে।

গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ, ২০১৯’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘পুলিশ-জনতা ঐক্য গড়ি, মাদক-জঙ্গি নির্মূল করি’।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এখন থেকে দায়িত্ব পালনকালে কোনো পুলিশ সদস্য নিহত হলে তার পরিবার আট লাখ টাকা পাবে। পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে পুলিশ ও জনসংখ্যার অনুপাত ছিল ১:১৩৫৫। কিন্তু আমাদের সরকারের আমলে এই অনুপাত ১:৮০১-এ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যমান চাহিদার নিরিখে এই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। এই বাহিনীর প্রয়োজনীয় আধুনিক যানবাহন-সরঞ্জামাদি ও অস্ত্র সরবরাহ, ভূমি সংস্থান, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ৩৪৯ পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদকে (পিপিএম) ভূষিত করেন। এর মধ্যে ১০৪ জন বিপিএম (সেবা) ও ৪০ জন বিপিএম (সাহসিকতা) এবং ১৪৩ জন পিপিএম (সেবা) ও ৬২ জন পিপিএম (সাহসিকতা) পদক অর্জন করেন।

এই পদকপ্রাপ্তি তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও বেশি উদ্দীপনা ও প্রেরণা জোগাবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি পুলিশকে আরও বেশি করে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালনে আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমস্যাকে দেখতে হবে একান্ত আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। জনগণের মনে পুলিশ সম্পর্কে যেন অমূলক ভীতি না থাকে, সে জন্য জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক বাংলাদেশ পুলিশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশ পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ দেশমাতৃকার সেবায় সর্বদা পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে গণতন্ত্রবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, জনবিচ্ছিন্ন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস চালায়। সেই অশুভ শক্তি সারা দেশে হরতাল, অবরোধ, সহিংসতা, নাশকতা, জ্বালাও-পোড়াও, আগুন-সন্ত্রাস, নিরীহ মানুষ হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের অপচেষ্টা চালিয়েছিল। সেদিন পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকা- রুখে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে হোলি আর্টিজানে এবং শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা হয়। পুলিশ বাহিনী সুদৃঢ় মনোবল, অসীম সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক ভিত্তি ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে গতকাল সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত