মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এটা কি সাংবাদিকদের বিষয়, কেন এ প্রশ্ন করবেন?

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:০৩ পিএম

নির্বাচন নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রের কোনো গঠনতন্ত্র মানছে না এবং বিভিন্ন উপজেলায় বর্ধিত সভা পণ্ড হওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে উষ্মা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দ্বিতীয় দিনের মতো মনোনয়ন বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নে এমন অভিব্যক্তি দেখান তিনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রের কোনো গঠনতন্ত্র মানছে না, বিভিন্ন উপজেলায় বর্ধিত সভা পণ্ড হওয়ার অভিযোগ করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা- এ বিষয়ে দলের সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ওই সাংবাদিক।

জবাবে অনেকটা উষ্মা প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “এটা কি সাংবাদিকদের বিষয়। কেন আপনি এ প্রশ্ন করবেন? আমার তৃণমূল নিয়ে কেন আপনার এত মাথা ব্যথা? আপনি এটা পারেন না। ডোন্ট ডু ইট। শুড ইট ইউর কোশ্চেন? আমাদের তৃণমূল আমরা দেখব?”

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি ইলেকশন নিয়ে কথা কথা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ টিকেছে? এটা আমাদের দলীয় বিষয়, আমরাই সমাধান করব। আমাদের নিজস্ব ম্যাকানিজম রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি বড় সংগঠন। পাঁচ বছর পরে উপজেলা নির্বাচন হবে। অনেকেরই প্রার্থী হওয়ার আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে। তবে এখানে নিয়ম-অনিয়ম দেখার বিষয়ে দলের মনোনয়ন বোর্ড রয়েছে। এটাতো চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এখানে সার্ভে রিপোর্ট রয়েছে। যদি নিয়ম অনুযায়ী কোথাও কিছু না হয়, সেটা মনোনয়ন বোর্ড দেখবে। অনিয়মের কাউকে আমরা মনোনয়ন দেব না। যাচাই-বাছাই করে মনোনয়ন দেব।”

তিনি বলেন, আমরা তৃণমূল থেকে এক থেকে তিনজনের নাম চেয়েছি। এখানে আমরা দেখব জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর রয়েছে কিনা? উপজেলা নেতারা বর্ধিত সভা করেছে কিনা তা আমরা দেখব। সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখব। যদি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে সেখানে আমরা আমাদের সার্ভে রিপোর্ট ফলো করব।

আওয়ামী লীগ আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শুধু উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দেবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এখন চেয়ারম্যানের পাশাপাশি ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমাদের এ সম্পর্কিত সিদ্ধান্তের পরে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে এ ব্যাপারে আইনগত একটা বিষয় রয়েছে। আইনগত দিক দেখলে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিতে হবে এবং প্রতীকও দিতে হবে। এই সংবাদ পাওয়ার পরে আমি সিইসি ও সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। আইনগত দিক বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি।”

এসময় তিনি বলেন, গতবার উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে বিজয়ীর সংখ্যায় বেশি ছিল বিএনপির। গতবার যারা বিজয়ী হয়েছে তারা এবার নির্বাচন একেবারে ফাঁকা মাঠে ছেড়ে দেবে, আমার তো মনে হয় এটার সম্ভাবনা খুব কম। অনেকই নির্বাচন করতে চাইবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে না এটা দলীয়ভাবে অফিসিয়ালি বলেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে মেয়র পদে তাদের প্রার্থী নেই। কিন্তু কাউন্সিলর-ইউনিয়ন পর্যায়ে অনেক নেতার প্রার্থিতা রয়েছে। 

তিনি বলেন, “তারা (বিএনপি) হয়তো ওপেনলি প্রতীকে নেই। তারা একেবারে মাঠে নেই একথা বলা যাবে না। উপজেলা নির্বাচনে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে পারে। দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কাজেই আমাদের সবকিছুই মাথায় রাখতে হচ্ছে।”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির অধিকার। আমি আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে তাদের নির্বাচনে (উপজেলা) আসার আহ্বান জানাতেই পারি। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে- এটা তাদের অধিকার। রুলিং পার্টির কোনো সুযোগ বিতরণ নয়।”

বিএনপির আন্দোলনের হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণ-আন্দোলন করার মতো ইস্যু তাদের কাছে ছিল, কিন্তু তারা তখন আন্দোলন করতে পারেনি। তাদের দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি যখন গ্রেপ্তার হলেন, তখন তারা জনমনে বিন্দুমাত্র আলোড়ন তুলতে পারেনি। তারা যে আন্দোলন করবে নতুন করে, কোনো ইস্যু তো তাদের সামনে নেই।”

“নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এ মুহূর্তে সরকার তো কোনো ইস্যু দিচ্ছে না। তাহলে তারা কিসের ওপর ভিত্তি করে আন্দোলন করবে”

এ সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তিনি আওয়ামী লীগে ফিরছেন কিনা এটা তার নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়। এটা তার নিজস্ব চিন্তা-ধারণা। এটা নিয়ে তার সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আর এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আমি দিতে যাব কেন? তারও বিবেক আছে, রাজনীতি করে। কাজেই সে তার বিবেক থেকে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমরা কেন তাকে ইনফ্লুয়েন্স করব।”

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত