শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরাজীর্ণ ভবন, বখাটে আতঙ্ক

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:০০ এএম

ভবনের ছাদে ছোট-বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ থেকে বিক্ষিপ্তভাবে আস্তর খসে পড়ছে। বিম ও পিলারে বড় ধরনের ফাটল। মরিচা ধরা রড ছাদ থেকে বেরিয়ে পড়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরাজীর্ণ এই ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা।

১৯৬৫ সালের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ৩০ শয্যার হাসপাতাল ২০০৬ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু সুযোগ সুবিধার উন্নয়ন ঘটেনি। সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ৩০ শয্যার পুরনো ভবন মহিলা রোগীদের জন্য নির্ধারিত। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটিতে শয্যা সংকটে স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে বিছানা করে রোগীদের রাখা হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে কক্ষের ভেতরে পানি পড়ে। সম্প্রতি হাসপাতাল ভবনের ছাদ থেকে একটি বৈদ্যুতিক পাখা খসে পড়ে। ওই ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নির্মাণের ১০ বছর না যেতেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে ভবনটি। ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি ভেতরে পড়ে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির সরবরাহ ব্যবস্থা নেই। জরুরি বিদ্যুতের জন্য একটি জেনারেটর থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার আছে। কিন্তু অপারেশন হয় না। এক্সরে মেশিন থাকলেও নেই অপারেটর।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোমিনুর রহমান জানান, হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্ট নেই। জীবানু মুক্তকরণ অটোগ্ল্যাব মেশিন না থাকায় অপারেশন চিকিৎসা চালু করা যায়নি। 

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন ও কয়েকজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, বখাটে ও ভবঘুরের কয়েকটি দল হাসপাতালের ছাদে উঠে মদ, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করেন। ডাক্তার, নার্স ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তারা দুর্ব্যবহার করে। এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে অভিযোগ করা হলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না বলে জানান তারা।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ বলেন, হাসপাতালে বখাটেদের উৎপাত বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থার জন্য রাঙ্গুনিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত