রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বইমেলায় উচ্ছ্বসিত খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মীরা

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:২৫ এএম

দেশের পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের সবচেয়ে বড় মিলনমেলা হলো বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশে বইমেলা। মাসব্যাপী এই মেলার অসংখ্য স্টলে প্রতিদিনই ভিড় করেন হাজারো পাঠক-দর্শনার্থী। পাঠকের এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে নিজস্ব বিক্রয়কর্মীর পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি স্টলেই মেলা উপলক্ষে নিয়োগ দেওয়া হয় খণ্ডকালীন বিক্রেতা। এ কাজে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয় তাদের বেশিরভাগই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ শিক্ষার্থীরা মেলায় কাজ করে ছাত্রাবস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি অনেক সময় তাদের প্রিয় সব লেখকের সঙ্গেও পরিচিত হতে পারছেন। এতে দারুণ উচ্ছ্বসিত এই শিক্ষার্থী বিক্রয়কর্মীরা। ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি প্রবল ভালোবাসা ঢাকা কলেজের ছাত্র আবদুর রফিকের। প্রতি বছরই আসেন বইমেলায়। এ বছর পড়াশোনার চাপ কম থাকায় বইমেলাকেই কাজের ক্ষেত্র বানিয়ে ফেলেছেন। পাঠক সমাবেশের স্টলে খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মীর কাজ পাওয়া এই তরুণ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এর মাধ্যমে ছাত্রাবস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছি। এর পাশাপাশি একসময় যে লেখকদের নাম শুনতাম, তাদের সঙ্গে পরিচয়ও হচ্ছে। বইমেলায় কাজের অভিজ্ঞতা এবার প্রথম। ব্যাপারটা উপভোগ করছি। সুযোগ পেলে পরের বছরেও কাজ করার ইচ্ছা আছে।’ রফিক আরও বলেন, ‘প্রকাশকরা মূলত দুইভাবে খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকেন। পরিচিতদের সরাসরি অথবা ওয়েবসাইটে পাওয়া আবেদন থেকে যাচাই-বাছাই করেন। আসলে বইয়ের প্রতি ভালোলাগা থেকেই বইমেলায় কাজ করা। এখান থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে পছন্দের বই সংগ্রহ করব।’

প্রায় একই ধরনের কথা বলেছেন পাঠক সমাবেশের স্টলের আরেক খণ্ডকালীন কর্মী রাজধানীর সিটি কলেজের ছাত্রী মুক্তা। বইমেলায় খণ্ডকালীন কাজ পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কিছু বাড়তি দক্ষতার প্রয়োজন হয় বলে জানালেন দাঁড়িকমা প্রকাশনীর খণ্ডকালীন বিক্রেতা পিয়াল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘শুদ্ধ বাচনভঙ্গি, ধৈর্যশীল এবং বই সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে এই কাজের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।’ গত বছর মেলায় কাজ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফাহমি জানান, বইমেলায় কাজ করে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। আর বইমেলায় খণ্ডকালীন কাজের ফলে শুধু অর্থনৈতিকভাবেই নয়, আরও নানাভাবে একজন শিক্ষার্থী উপকৃত হয়ে থাকে। তিনি বলেন, ‘সারা বছরই দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় বইমেলা হয়ে থাকে। বইমেলায় যারা ভালো কাজ দেখাতে পারেন, তারা সেখানে কাজের পাশাপাশি প্রকাশনী অফিস ও বিভিন্ন আউটলেটে স্থায়ী কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া সামনের দিনগুলোয় বইমেলায় কাজের ক্ষেত্রে তারাই অগ্রাধিকার পান।’ জানতে চাইলে অন্যপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই বেশিরভাগ পার্টটাইম লোকবল নিয়োগ দিয়ে থাকি। এক্ষেত্রে কাজের পূর্বাভিজ্ঞতা ও বইপত্র সম্বন্ধে ভালো ধারণা থাকলে কাজ পাওয়া সহজ হয়। বইমেলার সময়টা বিকেল ৩টা থেকে তাই শিক্ষার্থীরা ক্লাসের পর এসে সহজেই কাজ করতে পারছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত