বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘বাংলাদেশকে আলোকিত করতে চাই’

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩৮ এএম

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সংগীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বিশ^সাহিত্য কেন্দ্রের ৪০ বছর পূর্তি উৎসব। এ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরির সামনে থেকে শুরু হয় বৈচিত্র্যপূর্ণ শোভাযাত্রা। এতে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। কার্নিভ্যাল ঢঙে বর্ণিল, মনোজ্ঞ ও সুসজ্জিত শোভাযাত্রা সাজানো হয় ১৮টি ভাগে। 

শোভাযাত্রার শুরুতে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘বাংলাদেশকে আলোকিত হতেই হবে। আমাদের একটি বড় ও গৌরবময় জাতি চাই। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি চাই। সে লক্ষ্য নিয়েই বিশ^সাহিত্য কেন্দ্র কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি কুঁড়িকে দেখে যেমন পুরো প্রস্ফুটিত ফুল ভাবা খুবই কঠিন, তেমনি ৪০ বছর আগে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের শুরুটা হয়েছিল কুঁড়ি দিয়ে। কিন্তু এই ভাবে যে এটি প্রস্ফুটিত ফুল হবে এটি ভাবিনি। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র একদিন আরও বড় হবে।’

শোভাযাত্রায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সংগীতব্যক্তিত্ব মুস্তাফা জামান আব্বাসী, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, কথাসাহিত্যিক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, নাট্য অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ, টিভি ব্যক্তিত্ব আবদুন নূর তুষার, নাগরিক টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক প্রমুখ।

উৎসব আয়োজনে বক্তারা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সফলতা কামনা করে শুভেচ্ছা জানান। রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আলোকিত মানুষ গড়ার যে উদ্যোগ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ নিয়েছিলেন তা দেশ গড়ার প্রত্যয়ে অত্যন্ত দূরদর্শী একটি ভূমিকা ছিল। আজকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।’ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার কোনো তুলনা হয় না। সারা বিশ্বে এখনকার একটি সমস্যা হলো অনেকেই এখন বই পড়তে চায় না। বই পড়ানোর এই কাজটি আমাদের দেশে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এককভাবে করে যাচ্ছে।’

বিশ^সাহিত্য কেন্দ্রের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলামোটরে কেন্দ্রের ভবনকে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। উৎসবে ৩০ হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো  হয়। দিনব্যাপী চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কণ্ঠশিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়, প্রিয়াংকা গোপ, চন্দনা মজুমদারসহ প্রায় অর্ধশত শিল্পী মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন। গানের ফাঁকে চলে গৌড়ীয়, মণিপুরি, কত্থকসহ বিভন্ন ধরনের নাচ ও আলোচনা। দিনভর শুভেচ্ছা জানাতে আসেন বিশিষ্টজনরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত