রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা শেষ

ছাড়ের আশায় ক্রেতাদের ছোটাছুটি বিক্রেতাদের ৫ ঘণ্টার লড়াই

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:০৪ এএম

হাতে স্মার্টফোন এবং বেণিবাঁধা খোঁপায় একগুচ্ছ গাদা ফুল গুঁজে বান্ধবীর সঙ্গে একের পর এক নানা ভঙ্গিমায় সেলফি তুলছিলেন মোহাম্মদপুরের তরুণী তানিয়া হক। পড়ন্ত দুপুরের হালকা রোদে চিকচিক করছিল দুজনের হাসিভরা মুখ। গতকাল শনিবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার সমাপনী দিনে মেলা প্রাঙ্গণে এভাবেই দেখা গেছে অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে। বাদ যাননি শিশু ও বয়স্করাও।‘এবার তো শেষ, ফের এক বছরের অপেক্ষা। স্মৃতিপটে ধরে রাখতে বাণিজ্যমেলার রঙিন আয়োজন ক্যামেরাবন্দি থাকুক না।’ এভাবেই অনেকটা আক্ষেপের সুরে তার প্রতিক্রিয়া জানান ধানমন্ডির আদিত্য অঞ্জন। শেষ দিনে মেলায় এসেছেন শুধু ঘুরতে। কেনাকাটায় তেমন আগ্রহ নেই এ তরুণের।আদিত্যের মতো হাজার হাজার দর্শনার্থী এদিন মেলায় ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। এদের কেউ কেউ ছিলেন ‘আখেরি মুহূর্তে’ বিভিন্ন পণ্যে বড় ছাড়ের অপেক্ষায়, আবার কেউ ছুটেছেন পছন্দের পণ্যের স্টলের সন্ধানে। তবে ক্রেতাদের মনোভাব যা-ই হোক, বিক্রেতারা প্রাণপণ লড়াই করেছেন ক্রেতা আকর্ষণের আশায়। বেলা ৩টার পর তারা শুরু করেন শেষ পাঁচ ঘণ্টার লড়াই। দুই হাতে তালি আর গলায় স্লোগান দিয়ে অনেকে আবার স্টল থেকে বেরিয়ে চাটাইয়ের ওপর দোকান পেতে বসেন গলিতে গলিতে। মেয়েদের ওড়না, কারুপণ্য ও প্রসাধনপণ্য বিক্রেতাদের যেন রীতিমতো যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। তবে বিক্রি কম হয়েছে জানিয়ে এদের অনেকের কণ্ঠেই অভিমান।জুয়েলারি পণ্যের বিক্রেতা হারুন-অর রশীদ দোকানের দেয়ালে হেলান দিয়ে বিস্ময়ভরা চোখে নিজের দোকানের বিক্রয়কর্মীদের নানা অঙ্গভঙ্গি লক্ষ্য করছিলেন। মোট কত বিক্রি করলেনÑ প্রশ্ন করতেই একরাশ হেসে বললেন, ‘ব্যবসায় ধস, বিক্রি নাই। মাল সব পইড়া আছে, পরায় ৩ লাখ ট্যাকা লস খামু।’

জম্মু কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে আসা শাল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাফি দেশ রূপান্তরকে জানান, মেলায় তার ১০টি দোকানের মালামাল আনতে শুল্ক বাবদই খরচ হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। কিন্তু শেষ দিন পর্যন্ত আনুমানিক বিক্রি করেছেন মাত্র ৩০ লাখ টাকা। আধো বাংলা আধো হিন্দিতে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা লস খাইছি ভাই। শীতের তেমন প্রভাব না থাকায় ব্যবসায় এই মন্দা।’

প্রসাধনপণ্য ও পোশাক ব্যবসায়ীদের মুখে হতাশার কথা শোনা গেলেও আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের ব্যবসা ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আকতার ফার্নিচারের জুনিয়র এক্সিকিউটিভ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘গতবারের তুলনায় বিক্রি কম হলেও ব্যবসা ভালো হয়েছে। মেলায় নতুন নতুন ডিজাইনের বেড, সোফা ও ডাইনিং বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে।’

একই ধরনের তথ্য দেন ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাতা মিনিস্টারের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মাহফুজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ব্যবসা আশানুরূপ হয়েছে। ক্রেতারা ফ্রিজ, এসি ও এলইডি টিভি বেশি কিনেছে।’

বাণিজ্যমেলার শেষ কয়েক ঘণ্টায় যেসব দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে, এর মধ্যে প্লাস্টিকপণ্য নির্মাতা দেশীয় কোম্পানি আরএফএলের স্টল ছিল উল্লেখযোগ্য। ক্রেতাদের চাপে তাদের স্টলে দাঁড়ানোই ছিল কঠিন। বেঙ্গল প্লাস্টিকের দোকানেও ছিল একই চিত্র। সেখানে কেরানীগঞ্জের রিনা বেগম স্বামী বাশার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। স্বামী-স্ত্রীর হাত ভর্তি ছিল নানা ধরনের সামগ্রী। বেশি ছাড়ের আশায় মেলার শেষ মুহূর্তে এসেছেন বলে জানান এই দম্পতি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত