মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ‘বিব্রত’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:০৫ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে দীর্ঘ সময়েও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আমি বিব্রতবোধ করছি। তবে এ বিষয়ে সরকার আন্তরিক। আমরা প্রতিনিয়ত এ বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছি। আশা রাখি দ্রুতই এর একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারব। খুনিরা দ্রুত ধরা পড়বে’।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যার বিচার চেয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে সোমবার  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিতে গেলে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এই কথা বলেন।

দুপুর ২টার দিকে স্মারকলিপি দিতে যান সাংবাদিক নেতারা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাংবাদিক নেতারা বলেন, আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং প্রকৃত খুনিদের মুখোশ উন্মোচন করে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

তারা বলেন, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি যে তারিখ নির্ধারিত রয়েছে সেই তারিখেই যেন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়। আর যেন সময় নষ্ট করা না হয় সে জন্য মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘যেকোনো হত্যার বিচার পাওয়া নাগরিকের অধিকার। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বড় বড় হত্যা রহস্য উন্মোচন ও অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করেছে। সাগর-রুনি হত্যার কোনো কূলকিনারা তারা করতে পারবে না এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কোনো অদৃশ্য শক্তি বা বাধার কারণে এই হত্যার তদন্তের নামে বছরের পর বছর কালক্ষেপণ করা হচ্ছে সেটাই এখন বড় রহস্য।’

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বারী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মাহমুদ এ রিয়াত, সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশাহ।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি নিজ বাসায় খুন হন। পরে রুনির ভাই নওশের আলম রোমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত সাত বছরে আদালতের ধার্য করা ৬২টি তারিখেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গত ৯ জানুয়ারি মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। এদিন মামলার তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বেঁধে দেন।

এর আগে সকাল ১১টায় ডিআরইউ চত্বরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ’র সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ডিআরইউ’র অর্থ সম্পাদক জিয়াউল হক সবুজ, দপ্তর সম্পাদক মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. এমদাদুল হক খান, কার্যনির্বাহী সদস্য বি এম নূর আলম (বাদল নূর), মোহাম্মদ মাকসুদুল হাসান, রাশেদুল হক, ডিআরইউ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, রাজু আহমেদ, মুরসালিন নোমানী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব, বিএফইউজের একাংশের মহাসচিব এম. আব্দুল্লাহ, ডিইউজের একাংশের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশেনর সহ-সভাপতি মিজান মালিক, যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত