সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সাজা মনছুরের, জেল খেটেছে সোহেল: আরেক ‘আয়ানাবাজী’

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:২১ পিএম

মনছুর সেজে ফেনী কারাগারে সাজা খাটছে সোহেল নামের অন্য ব্যক্তি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় পর সোমবার প্রতারণার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া ইসলাম।

বহুল আলোচিত সিনেমা ‘আয়নাবাজী’র মতোই ঘটেছে ঘটনাটি।

সূত্র জানায়, একই সঙ্গে নাম বদল করা ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করে জামিন প্রার্থনাকারী আইনজীবীর ব্যাখ্যা তলব করেছেন আদালত।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৯ আগস্ট মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক হয় চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা মনছুর আলম (৩৭)। সে ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের মধ্যম লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরে সে একই বছরের ৩১ আগস্ট জামিনে মুক্তি নিয়ে পায়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই মামলায় মনছুরের ২ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয় আদালত। ফেনী মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, মনছুরের বিরুদ্ধে এক হত্যা ও পাঁচ মাদক মামলা রয়েছে।

সিরাজ জানায়, পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবে এ শর্তে অনেকটা চাপ দিয়ে তাকে নাম বদল করে সাজা খাটার জন্য চাপ দেয় মনছুর। একপর্যায়ে মনছুরের প্রস্তাবে রাজি হয়ে সাইফুল ইসলাম সোহেল (২৫) ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর সাব্বির আহমেদ নামের এক আইনজীবীর মাধ্যমে ফেনীর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।

সে আরো জানায়, ১৮ দিন সাজা খাটার পর কারাভোগের অসহনীয় যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে সাইফুল নিজে মনছুরের নাম ধারণ করে সাজা খাটার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে জবানবন্দি দেন। পরে বিচার বিশ্লেষণ করে আদালত প্রকৃত আসামি মনছুর উদ্দিনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। ২৩ ডিসেম্বর মনছুর আলম পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়।

সোমবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তানিয়া ইসলাম নাম ও ব্যক্তি বদল করে আদালতের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত মনছুর আলম ও সাইফুল ইসলাম সোহেলের বিরুদ্ধে প্যানেল কোড ১৮৬০ এর ২০৫ ও ১০৯ ধারায় মামলা দায়েরের জন্য আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. গোলাপ হোসেনকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মনছুরের নাম ধারণ করা সাইফুলকে আদালতে হাজির করে জামিন প্রার্থনাকারী আইনজীবী সাব্বির আহমদকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যর্থতায় ১৯ ফেব্রুয়ারি আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।

ফেনী জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ প্রতারণার দায়ে দুই আসামির বিরুদ্ধে মামলা ও সহযোগিতার দায়ে এক আইনজীবীর ব্যাখ্যা তলবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত