মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘মিডিয়া ট্রায়াল নয়, মিতুর দায় আদালত পরীক্ষা করুক’

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৬:৩১ পিএম

চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী চিকিৎসক তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর যাতে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ না হয় সে আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ৪৯ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

মঙ্গলবার এক যুক্ত বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচণ্ড বিদ্বেষ ও ঘৃণা উদ্রেককারী বক্তব্য প্রকাশিত হচ্ছে।

তাদের আশঙ্কা, এর নির্মম শিকার হচ্ছেন আকাশের স্ত্রী মিতু এবং তার পরিবার, যা বিচারাধীন এই ঘটনাটিকে ‘মিডিয়া-ট্রায়াল’-এর দিকে নিয়ে যেতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মামলা হওয়ার আগেই আইনবহির্ভূতভাবে মিতুকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীকে রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক।

এতে বলা হয়, আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন মানবিক এবং সামাজিক সম্পর্কের নতুন ধারা এবং মাত্রা আমাদের সমাজে প্রবেশ করেছে। সারা বিশ্বেই মানুষ এখন অপর মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের মাত্রা নিজে নির্ধারণ করাকে অধিকার ভাবছে। এটা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত নয়।

বিবৃতিদানকারীরা বলেন, এজন্য আত্মহত্যার দায় অন্যকে দেওয়া এবং প্ররোচনার জন্য অভিযুক্ত করার বিষয়টি অত্যন্ত সচেতনভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন যেন আত্মহত্যা করা ইতিবাচক হিসেবে প্রতিফলিত না হয়।

তারা বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই আকাশের আত্মহননের দায় যেনে কিছুতেই অন্যায্যভাবে মিতুর কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে মিতুকে এবং তার পরিবারকে লোকলজ্জা ও সামাজিক চাপের মধ্যে ফেলা না হয়।

সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক, মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী সারা হোসেন, লেখক রেহনুমা আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীনসহ ৪৯ বিশিষ্ট নাগরিক এ বিবৃতি দেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বি-ব্লক দুই নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাসা থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

শিরায় ইনজেকশন পুশ করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এর জন্য ডা. আকাশ স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ কয়েকজনকে দায়ী করেছেন।

এ ঘটনায় আকাশের মা জোবেদা খানম বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতু, তার বাবা-মা-বোন এবং দুই বন্ধুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত