পোশাকে ভালোবাসার রং

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:১৮ এএম

সাজসজ্জার সঙ্গে পোশাকটা হওয়া চাই যুগোপযোগী। ভালোবাসা দিবসের উৎসবকে ঘিরে কোন পোশাকে বের হবেন, কী পরবেন জেনে নিন। বাজার ঘুরে তার তত্ত্ব-তালাশ দিলেন রায়হান রহমান ও রবিউল কমল

যা চলছে

বছর জুড়েই দেশীয় পোশাকের চাহিদা আর রং ও হাতের কাজের ব্যবহারেও নতুনত্ব থাকে। এসব মাথায় রেখেই বুটিক হাউসগুলো বাহারি ডিজাইনের বুটিক পণ্যের পসরা দিয়ে সাজিয়েছে তাদের ভালোবাসার পোশাক। স্ক্রিনপ্রিন্ট আর হাতের কাজের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ হয় এসব পোশাকের দরদাম। বিভিন্ন রঙের সুতা দিয়ে হাতে কাজ করা মেয়েদের কোটিওয়ালা লং সিঙ্গেল কুর্তি, সিঙ্গেল দোপাট্টা, পালাজ্জো ও লেগিংস মোটামুটি সব বুটিক হাউসেই পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো লং সিঙ্গেল কুর্তি কামিজ, লং ফ্রক ও টপসের সঙ্গে আয়েশ করে পরা যাবে।

রাজধানীর বুটিক হাউস মেয়েদের কোটিওয়ালা লং সিঙ্গেল কুর্তির সঙ্গে নানা ধরনের মোটিফে হাতের কাজ করা পোশাকের প্রাধান্য। দেশীয় নকশায় এসব কুর্তি, কামিজ, লং ফ্রক ও টপসের সঙ্গে। সুবিধামতো সিঙ্গেল দোপাট্টা, পালাজ্জো ও লেগিংস পরা যাবে। এ ছাড়া এক্সট্রা লং, ফ্লোর টাচ্ ডিজাইনের কামিজও আছে এসব হাউসে।

ফ্যাশন হাউস বাংলার মেলা সেজেছে ভালোবাসার রংয়ে। হলুদ, লাল, কমলা, সবুজ ও জলপাই রঙের মিশেলে সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, কুর্তি ও গাউন আছে। প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে রং ও হাতের কাজের। সিল্ক, অ্যান্টি সিল্ক, তসর, অ্যান্টি কটন, জুট কটনের ওপর রয়েছে এমব্রয়ডারি, হাতের কাজ, অ্যাপলিক, ব্লকের ওপর হাতের কাজ করা শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও লং কামিজ। অঞ্জন’স সাধারণত জ্যামিতিক মোটিফ নিয়ে বেশি কাজ করে। তবে এবার উৎসবের সঙ্গে তাল মেলাতে ফুলের নকশাকেই প্রাধান্য দিয়েছে।

উৎসবে সেজেছে দেশীয় বুটিক রঙ্গ বাংলাদেশ। এবার মেয়েদের পোশাকের আয়োজনে আছে অ্যাপলিক, এমব্রয়ডারি, এনডি সিল্ক, কটনের ওপর গর্জিয়াস হাতের কাজ করা শাড়ি, কামিজ ও ফতুয়া। শাড়ির মধ্যে রয়েছে জামদানি, মসলিন, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ও হাফ সিল্ক।

হলুদ, সবুজ আর লালের মিশেলে ডিজাইন করা এসব শাড়ির পাড় ও আঁচলে রয়েছে এমব্রয়ডারির কাজ। জমিনের ওপর ফুলের নকশার সঙ্গে বাসন্তী আর লাল রঙের মিশেল নজর কাড়বে সবার। কে-ক্র্যাফ্্টের সালোয়ার-কামিজ কালেকশনে ভালোবাসা দিবসের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার দিবসের বিষয়ও দৃষ্ট আকর্ষণ করেছে।

এমনিতে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, টপসে নেভি ব্লু, আকাশি, বেগুনি গোলাপি ও বাসন্তী রং গুরুত্ব পেয়েছে। এসব শাড়ির জমিনে রয়েছে ব্লকের নকশা ও জুড়ে দেওয়া আলাদা চওড়া পাড়। আঁচলে বিভিন্ন রঙের মিশেলে স্ক্রিনপ্রিন্টের পাশাপাশি রয়েছে হাতের কাজ। কামিজের সঙ্গে স্ক্রিনপ্রিন্টের ওড়না ও সালোয়ার। এ ছাড়া মাতৃভাষা দিবসের জন্য রয়েছে সাদা-কালো মিশেলের বিভিন্ন স্ক্রিনপ্রিন্ট সালোয়ার-কামিজ।

এবার দেশালের শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ, সব ক্ষেত্রেই নকশায় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ফুল বা পাতাকে। শাড়ির জমিনে কবিতা বা গানেই লাইন জুড়ে আনা হয়েছে ভিন্নমাত্রা। রঙের ক্ষেত্রেও দেখিয়েছে সবুজ, বাসন্তী, হলুদ, লেমন ও কচি কলাপাতা রং আর সবুজের কয়েকটি শেড ব্যবহার করা হয়েছে । শাড়ির মধ্যে মিলবে সুতি ও লিলেন তাঁত। কামিজের ঝুলে দেখা মিলবে হাতের কাজ ও এমব্রয়ডারির খেলা।

রঙের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য এনেছে বিশ্বরঙ। সবুজ, কমলা, লাল ও ফিরোজা রং জুড়ে দেওয়া হয়েছে কামিজের মধ্যে। ব্যবহার করা হয়েছে ফেব্রিক। রাউন্ড শেপ গলায় ফ্রেবিকের ডিজাইন, সঙ্গে কামিজের ঘেরে কমলা পাইপিন নজর কাড়বে সবার। ফুলের নকশাও রয়েছে বেশ কিছু পোশাকে। শাড়ির ক্ষেত্রেও তাই। ব্লকপ্রিন্ট কটন, হাতের কাজ করা কটন ও ব্লকপ্রিন্ট হাফ সিল্ক শাড়ি রয়েছে এদের কালেকশনে।

নকশায় ঐতিহ্যের ছোঁয়া নিয়ে সব সময় হাজির হয় দেশি ফ্যাশন হাউস ‘আড়ং’। এদের কাছে রয়েছে কাতান, বোহিমিয়ান, জাপানিজ আর্ট, কনটেমপোরারি জিওমেট্রিক, হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, জামদানিসহ বেশ কিছু কালেকশন। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ এদের অন্যতম আকর্ষণ। এবার অবশ্য কালেকশনের বড় অংশ জুড়ে আছে সবুজ, কমলা, গোলাপি বা পেস্তা রঙে বিভিন্ন পোশাক। সঙ্গে ফ্লোরটাচ গাউন।

তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে আঁচলে ফ্রিল দেওয়া শাড়ি। আবার শাড়ির পাড় বা কুঁচির জায়গায় বাটিক, অন্যদিকে কামিজের ওড়না বা পাজামায় বাটিক বা এমব্রয়ডারির কাজ নিয়ে এসেছে ‘কোরাল ক্লজেট’ ফ্যাশন হাউস।

এ ছাড়া সুতি শাড়ির সঙ্গে ফুলের ছাপ, রিকশা পেইন্ট বা গামছা প্রিন্টের ব্লাউজ এখন উৎসবের অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব পাওয়া যাচ্ছে দেশের নামিদামি সব বুটিক হাউসেই। হালের ফ্যাশনে পোশাক ডিজাইনে গুরুত্ব পায় প্রাকৃতিক রূপ ও রং। এসবের সঙ্গে মিল রেখে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজে হয় হাতের কাজ। ছোট ছোট মোটিফে চোখে পড়ে নকশিকাঁথার ফোঁড়। হাফ সিল্ক ও সিল্ক তাঁত, সুতি আর খাদির সঙ্গে ক্রেপ জর্জেটের পোশাকও চোখে পড়ছে সর্বত্র।

কার জন্য কেমন পোশাক

ছেলেদের ভালোবাসা দিবসের পোশাকে বেশ বৈচিত্র্য আছে।  বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ঘুরে দেখা গেছে, শুধু লাল নয়। রংবেরঙের পোশাকও আছে। আবার কাপল ড্রেসও রয়েছে। যেমন শাড়ির সঙ্গে পাঞ্জাবি কিংবা পাঞ্জাবির সঙ্গে সালোয়ার-কামিজের কম্বিনেশন। তাই চাইলে আপনি মিলিয়েও পোশাক পরতে পারেন। ভালোবাসার রং যেহেতু লাল তাই পোশাকের ডিজাইনে লাল রঙের প্রাধান্যই বেশি।। এছাড়া সাদা,নীল ও কালো রংকে প্রধান্য দিতে পারেন। 

সারা দিন ঘোরাঘুরি বা লং ড্রাইভে ছেলেরা টিশার্ট জিন্স-ফতুয়া পরলে ভালোই লাগবে। যদি ঠা-া কম থাকে তাহলে সাদা বা হাল্কা রঙের কোনো জিন্স টপস-এর ওপর জড়িয়ে নিতে পারেন লাল স্কার্ফ। তবে ভালোবাসা দিবস বলে শুধু লালেই আটকে থাকবেন না।  পছন্দমতো হালকা গোলাপি, উজ্জ্বল হলুদ, পার্পল, সুন্দর নীল যেকোনো রঙের পোশাকই আপনি পরতে পারেন। আজকে চাইলে গাউনও পরতে পারেন। তার সঙ্গে মানানসই জুতো, ব্যাগ, অ্যাক্সেসরিজ নিলেই সাজ সম্পূর্ণ। যদি দুজনে শুধু সন্ধ্যায় রোমান্টিক ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে যাওয়ার কথা ভাবেন, তাহলে শাড়িই হবে সেরা পোশাক। আর ছেলে পরবেন পাঞ্জাবি। অবশ্যই নিজেকে যেটা পরলে এবং যেভাবে সাজলে সুন্দর ও কমফোর্ট লাগবে সেটাই বেছে নিন।

ভালোবাসা দিবসের  কোন পোশাক পরে বের হবেন এ প্রসঙ্গে সারার ফ্যাশন ডিজাইনার কাশফিয়া নেহরিন বলেন, বিশেষ দিন কিংবা উৎসবে মূলত প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকেই একই রকম পোশাক পরতে চায়। সে কারণে পোশাকগুলো একটু গর্জিয়াসভাবে তৈরি করা হয়। এসব পোশাকে একই রকমের এমব্রয়ডারি, ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, অ্যাপ্লিকসহ মিক্সড মিডিয়ার কাজ থাকে। চাইলে ভ্যালেন্টাইন ডের পোশাকের প্যাটার্ন এবং রঙে ভিন্নতা আনতে পারেন।

রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার ও ফ্যাশন ডিজাইনার সৌমিক দাস বলেন, যেকোনো বিশেষ দিন কিংবা উৎসবে কালারফুল ডিজাইনের পোশাক পরতে চায় সবাই। ভ্যালেন্টাইন ডে’র কথা মাথায় রেখে লাল রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ ও কুর্তি রয়েছে। এর মধ্যে কাপল ড্রেসওআছে। অর্থাৎ ছেলে এবং মেয়ের পোশাকে ম্যাচিং করে পোশাক ডিজাইন করেছি। এসব পোশাকে সুতি কাপড়ে কাজের মাধ্যম হিসেবে এসেছে টাই-ডাই, ব্লক, অ্যাপ্লিক, কাটওয়ার্ক, স্ক্রিনপ্রিন্ট, হ্যান্ডপেইন্ট, বাটিকসহ কারচুপি, হ্যান্ডিক্র্যাফট ও মেশিন এমব্রয়ডারির কাজ রয়েছে। এসব পোশাক বেঝে নিতে পারেন।

কটন, লিলেন, খাদি, ভয়েল, তাঁত কটন কাপড়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বাসন্তি, হলুদ, কমলা রঙের পোশাক করেছে অঞ্জনস। উৎসবের রঙে রাঙাতে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া ও পাঞ্জাবির নয়া সব কালেকশন থাকছে এবার।  এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্টসহ এসব পোশাকের ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে সার্বজনীন উৎসবের আবহ। এড্রয়েট ভ্যালেন্টাইন ডে মানেই শুভেচ্ছা ও ভাববিনিময়ের দিন। এই দিনে ভালোবাসার মানুষটির সামনে নিজেকে কীভাবে সুন্দর করে উপস্থাপন করা যায় এ নিয়ে অনেকেই পড়েন দ্বিধায়। কাপলদের সুন্দর ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের জন্য এড্রয়েট তৈরি করেছে নতুন ডিজাইনের শাড়ি ও পাঞ্জাবি। টিনএজদের জন্য আছে সালোয়ার-কামিজ, শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া সবকিছুতেই যেন বসন্তের ফুলে ফুলে ভরে ওঠা প্রকৃতি। ভালোবাসার বিভিন্ন মোটিফ ব্যবহারে প্রতিটি নকশাকে করা হয়েছে আকর্ষণীয়। সুতি কাপড়ে কাজের মাধ্যম হিসেবে এসেছে চুনোট, টাই-ডাই, ব্লক-স্প্রে, অ্যাপলিক, কাটওয়ার্ক, স্ক্রিন, হ্যান্ডপেইন্ট, বাটিক, ভেজিটেবল রং, কারচুপি, হাত ও মেশিন এমব্রয়ডারি ও চুমকির কাজ। সুতরাং আপনাকে মানায় এবং কোন ধরনের পোশাক পরলে আরামবোধ করবেন এই ভাবনা মাথায় রেখে পোশাক নির্বাচন করুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত