ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ একটি শক্তিশালী রেজুলেশন পাশ করেছে। বুধবার এ রেজুলেশনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করা হয়।
আলজাজিরা জানায়, মার্কিন সংসদ কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ২৪১-১৭৭ ভোটে রেজুলেশনটি পাশ হয়। এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উচ্চকক্ষ সিনেটের ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার ভোটাভুটিতে প্রতিনিধি সভাকক্ষের সদস্য জিম ম্যাকগভার্ন বলেন, “ইয়েমেনে অধিকাংশ বিস্ফোরিত বোমাই যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত। এসব বোমা ইয়েমেনের বিয়ের অনুষ্ঠানে ফেলা হচ্ছে, ঘরে এমনকি হাসপাতালেও। জানাযায়, শরণার্থী ক্যাম্পে, স্কুলের বাসেও বোমা ফেলা হচ্ছে।”
আগের বছরের ডিসেম্বরেও ইয়েমেনে মার্কিন সহায়তা বন্ধে অনুরূপ একটি রেজুলেশন পাশ হয় নিম্নকক্ষে। কিন্তু কংগ্রেসের মুলতবি ঘটায় বিলটি অকার্যকর হয়ে যায়।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে সরকার ও হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিদের বিরুদ্ধে দেশটির নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত নেতৃত্বাধীন জোট।
২০১৫ সালে এই জোট ইয়েমেনে হামলা চালায়। এতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। যুদ্ধে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। গত দুই বছর ধরে এই যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমালোচনা তীব্র হতে শুরু করে।
এর আগের রেজুলেশনে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেছিলেন, “ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বন্ধে এখনই উপযুক্ত সময়।”
তিনি বলেন, “এই যুদ্ধে আমরা ইতিমধ্যে অনাহারী ৮৫ হাজার শিশুকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছি। জাতিসংঘের মতে, লাখ লাখ মানুষ অনাহারে ভুগছে। সুপেয় পানির অভাবে কলেরা ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে। নতুন করে ১০ হাজার কলেরা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তিন বছর আগে ইয়েমেনে স্বৈরাচারী ও অসৎ নেতৃত্বে সৌদি জোটের অভিযানের ফলেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।”
