যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতকে ভেনেজুয়েলায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস-এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিউইয়র্কে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি এ আহ্বান জানান।
আলজাজিরা জানায়, দুটি বৈঠকের দ্বিতীয়টি গত ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।
এর চার দিন পরই বিশেষ দূত ইলিয়ট আব্রামস বলেছিলেন, মাদুরো সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেছে।
এমনকি মাদুরো যখন তার সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্র্রাম্পের অবস্থানের সমালোচনা করে আসছিলেন, তখন তিনি বলেন, বিরোধী নেতা গুয়াইদোকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা সমাধানে তার (ট্রাম্প) সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি।
মাদুরো বলেন, যখন নিউইয়র্কে ছিলেন, তখন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ব্যক্তিগতভাবে, প্রকাশ্যে অথবা গোপনে’ ভেনেজুয়েলায় আসার জন্য আব্রামসকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট এপিকে বলেন, “তিনি (আব্রামস) যদি চান, শুধু আমাকে বলুক- কখন, কোথায় এবং কীভাবে দেখা করতে চান, আমি সেখানে যাব।”
বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বলে মাদুরো জানান, ওই বৈঠক দুটি কয়েক ঘণ্টা হয়েছিল। তবে এবিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদুরো বলেন, তিনি ক্ষমতা ছাড়বেন না। আর যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ভেনেজুয়েলার শত শত কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করার বিপরীতে কলম্বিয়া সীমান্তে আটকে পড়া মার্কিন ত্রাণসামগ্রীকে ‘সামান্য কয়েক টুকরা রুটি’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিজ দেশে খাদ্য এবং ওষুধের মারাত্মক সংকটের জন্য ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধকেই দায়ী করেন মাদুরো।
গত বছরের শেষের দিকে বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ করেন মাদুরো। বিরোধী দল তাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ দেশ এ নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দিলে পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়।
নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়ে ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নেতা গুয়াইদো দাবি করেছেন, যখন প্রেসিডেন্ট ‘অবৈধ’ হবেন, তখন সংবিধান অনুযায়ী তার ক্ষমতা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
গুয়াইদোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রায় ৪০ দেশ সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে মাদুরোর পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া, চীন ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ।
