সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুন

অসুস্থ বাবাকে নিয়ে আয়শার রুদ্ধশ্বাস ৩০ মিনিট

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৯ পিএম

আয়শা আক্তারের (২৫) বাবা আয়নাল উকিলের (৫০) শরীরে একই সঙ্গে তিনটি অপারেশন হয় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে।

বৃহস্পতিবার অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে সবে মাত্র প্রি এনেসথেটিক চেকআপ রুমে রেখেছে চিকিৎসকেরা। তখনো জ্ঞান ফেরেনি আয়নাল উকিলের। মুখে লাগানো ছিলো অক্সিজেন মাস্ক। শরীরে দেওয়া হচ্ছিল রক্ত। এরই মধ্যে হাসপাতালের স্টোর রুমে লাগে আগুন। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় আয়নালের অক্সিজেন। তড়িঘড়ি করে সবাই নিরাপদে হাসপাতাল ত্যাগ করে। চিকিৎসকরাও চলে যান তাদের ছেড়ে।

কিন্তু বাবাকে নিয়ে প্রি এনেসথেটিক চেকআপ রুমেই রয়ে যান আয়শা আক্তার। এ সময় কারও সাহায্যও পাচ্ছিলেন না। চারদিকে অন্ধকার। ভয়ে চিৎকার করতে থাকেন। এভাবেই প্রায় ৩০ মিনিট কেটে যায়। তার চিৎকারে তিন চারজন ছেলে ছুটে যায় সেখানে। উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় আয়নালকে। আয়শা আক্তার তার অসুস্থ বাবার চিকিৎসার জন্য মাদারীপুর থেকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আসেন।

শুক্রবার দুপুরে অন্যদের মতন তিনিও ফিরে আসেন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। তার বাবাকে রেখেছেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। দেশ রূপান্তরের এ প্রতিবেদকের কাছে কান্না জড়িত কণ্ঠে ঘটনার বর্ণনা দেন আয়শা আক্তার।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবার এপেন্ডিকস, টিউমার ও খাদ্য নালিতে অপারেশন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থেকে বের করার পরই এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পরি। বাবাকে যে বাঁচাতে পারব ভাবতেও পারিনি। তবে বাবাকে ছেড়ে আমি যেতে পারিনি। ভেবেছি যদি মরতে হয় তবে বাবার সঙ্গেই মরব। রেখে চলে যেতে পারব না। অবশেষে কয়েকজন ছেলে প্রি এনেসথেটিক চেকআপ রুম থেকে আমার বাবাকে উদ্ধার করেন। ওই ভাইদের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক রোগী অপারেশন থিয়েটারেও ছিলেন। তাদেরও ভয়াবহ অবস্থার মুখে পরতে হয়েছে।’

এদিকে হাসপাতালে ফিরে আসার পরও গতকাল বিকেল পর্যন্ত তার বাবার চিকিৎসা শুরু হয়নি বলে তিনি জানান।  

হাসপাতালের একজন সিনিয়র নার্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগুন লাগার সময় বেশ কিছু অপারেশন চলছিল। আমরা অপারেশন থিয়েটারের দরজাতে ধাক্কা দিয়ে আগুন লাগার তথ্য দিলে দ্রুত সবাই নিরাপদে চলে যায়। এ সময় অপারেশন থিয়েটারের রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কে কান্নাকাটি করে। আমরা তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সামর্থ্য হয়।’

গত বৃহস্পতিবার সরকারি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুন লাগার ১১৭৮ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার বিকেল পর্যন্তও রোগীরা ফিরছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত