অর্থাভাবে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণকাজ ৯ বছরেও শেষ হয়নি। ফলে অবহেলা অযত্নে এ বছরও পার হতে চলেছে অসম্পন্ন শহীদ মিনারের।
২০১০ সালে এনায়েতপুর থানার কেজির মোড়ে অবস্থিত ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোণে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ও চৌহালী উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শহীদ মিনারটির মূল অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। এর ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেছিলেন সে সময়ের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস।
উদ্বোধনের পর মূল অবকাঠামো নির্মাণে অর্থ শেষ হয়ে গেলে অসমাপ্ত রেখেই এর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে এটি অবহেলা ও অযত্নে মাঠের কোণে পরে আছে।
শহীদ মিনারটি এখন ছাগল-গরুর চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে।
আইসিএল স্কুলের প্রিন্সিপাল ওহিদুজ্জামান ও এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের মিয়া জানান, শাহজাদপুর, বেলকুচি ও চৌহালি উপজেলার মোট ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে এনায়েতপুর থানা গঠিত। এখানে কমপক্ষে ৫০টির মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১টি বিশ্ববিদ্যালয়, ১টি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, ১২টি প্রাইমারি, ১৬টি হাইস্কুল, মাদ্রাসা, ১টি কলেজ, একটি পলিটেকনিক কলেজ ও কয়েকটি কিন্ডার গার্ডেন রয়েছে। এ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য স্থায়ী ভাবে তেমন কোন ভালো শহীদ মিনার নেই। প্রতি বছর এ দিবসটিতে কলাগাছ, বাঁশ-বেত দিয়ে অস্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভেঙে ফেলা হয়।
কতিপয় ব্যক্তি উদ্যোগ নিয়ে এলাকাবাসীর চাঁদার টাকায় স্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তারা এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোণে শহীদ মিনার নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করে কাজ শুরু করে।
তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় তিনি চৌহালী উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে এ শহীদ মিনারটি নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে আর অর্থ বরাদ্দ না থাকায় নির্মাণকাজটি মাঝ পথে আটকে যায়।
চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু তাহির বলেন, আমি অসমাপ্ত শহীদ মিনারটি পরিদর্শন করেছি। উপজেলা নির্বচনের পর এটির বাকি কাজ শেষ করতে উদ্যোগ নেব।
