গরীবের অ্যান্টিবায়োটিক থানকুনি পাতা বিক্রি করে সংসার চলে হেমায়েত হোসেনের। প্রায় এক যুগ ধরে হেমায়েত (৬৮) মিষ্টি পানির বিভিন্ন এলাকা থেকে এ থানকুনি পাতা সংগ্রহ করেন। এরপর তা বিক্রি করে থাকেন মোংলার প্রধান কাঁচা বাজার সংলগ্ন গ্রাম্য হাটে।
হেমায়েত ভোরবেলা তার থানকুনি পাতা নিয়ে হাজির হন হাটে। তার ১০ টাকা করে থানকুনি পাতার ভাগ বিক্রি হয়ে যায় চোখের পলকেই। এভাবেই তার ১শ’ গ্রামের ভাগকৃত শাকের কেজি পড়ে ১০০ টাকা। ভোরে না আসলে পাওয়াই যায় না থানকুনি পাতা ও বিক্রেতা হেমায়েতকে।
ভোরবেলাই তার সংগৃহীত থানকুনি শাক/পাতা বিক্রি করে তিনি আবার বেরিয়ে পড়েন পাতা সংগ্রহের কাজে। দিনভর তিনি মিষ্টি পানির এলাকা বাগেরহাট সদর, মোল্লারহাট, ফকিরহাট ও ফয়লাহাটসহ দূরদূরান্ত অঞ্চল থেকে তুলে এনে ধুয়ে ও আগাছা পরিষ্কার করে তা পরদিন ভোরে ওই গ্রাম্য হাটে নিয়ে যান বিক্রি করতে।
এই থানকুনি পাতার চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। বাজারে এসে তাকে না পেলে লোকজন চলে যান হেমায়েতের বাড়ি পর্যন্ত। কারণ এ থানকুনি পাতার রয়েছে অনেক গুণাগুণ। দরিদ্র শ্রেণির লোকজন যারা ডায়রিয়া, কলেরার মতো রোগের জন্য অধিক দামে এন্টিবায়োটিক ওষুধ কিনতে পারেন না তারাই আসেন হেমায়েতের কাছে থানকুনি পাতা নিতে। এ থানকুনি পাতা মোংলার বাজারে একমাত্র হেমায়েতই বিক্রি করে থাকেন।

হেমায়েত হোসেন বলেন, ‘স্ত্রী নেই, তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। ছেলেরা যে যার মত দিনমজুরের কাজ করে। প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়েই থাকেন তিনি। থানকুনি পাতা বিক্রি করেই মেয়েকে নিয়ে তার সংসার চলে।
থানকুনি পাতার হাটে কথা হয় পৌর শহরের ভ্যান চালক মো. মিন্টুর সঙ্গে। তিনি বলেন, শনিবার রাত থেকে ছেলের পাতলা পায়খানা ও পেটে ব্যথা। ডাক্তার দেখানো ও এন্টিবায়োটিক ওষুধ কিনে খাওয়ানোর মত টাকা তার কাছে নেই। তাই মুরব্বিদের (তার মা) কথায় ১০ টাকার থানকুনি পাতা কিনে নিয়ে যাচ্ছি। এটা খাওয়ালে ভালো হয়। আগেও নিয়ে খেয়েছি।
শহরের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী দীনেশ সাহা বলেন, আমার মেয়ে গত কয়েক দিন ধরে পেটে ব্যথা বলে কান্নাকাটি করার পর ডাক্তারের কাছে নিলে ওষুধ দেয়। মেয়ে সেই ওষুধ খেতে চায় না। পরে ডাক্তারকে জানালে তিনি থানকুনি পাতার কথা বলেছেন। তাই থানকুনি পাতা কিনেছি, এটার রস করে কিংবা ভর্তা করে ভাতের সঙ্গে খাওয়ালে পেটের পীড়া ভালো হয়।
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস বলেন, থানকুনি পাতা বিশেষ করে পেটের পীড়ার জন্য ভীষণ উপকারী। এটি একটি ভেষজ গুনসম্পন্ন উদ্ভিদ। এতে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পেটের পীড়া উপশম হয়ে থাকে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (শিশু বিশেষজ্ঞ) ডা. তরুণ কান্তি দাস বলেন, সাধারণত ডায়রিয়া ও আমাশয়ের জন্য এজিথ্রামাইসিন নামক এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এর বিকল্প হিসেবে দরিদ্র শ্রেণির লোকজন থানকুনি পাতা খেয়ে থাকেন। অ্যান্টিবায়োটিকে কখনো কখনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়, তবে থানকুনি পাতাটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত। এটা ছোটবড় সবাই খেতে পারে।
