ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো চলে গেছেন সেই কবে। কিন্তু তাতে কী! নিজেকে তাতাতে লিওনেল মেসি নিজেই যে যথেষ্ট। শক্তিমান প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়েও তার ঐতিহাসিক যাত্রায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। এই ৩১ বছর বয়সেও প্রতি নিয়ত নিজের তরুণ সময়কে মনে করিয়ে দিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে ইতিমধ্যে লিগে ২২ বার জালের দেখা পেয়েছেন!
লা লিগায় মেসির আশপাশেও কেউ নেই। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লুইস সুয়ারেসের গোলসংখ্যা ১৫টি। তৃতীয় স্থানে জিরোনার ক্রিস্তিয়ান স্তুয়ানি। তার গোল ১৩টি।
মেসি তিন প্রতিযোগিতায় (লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং কোপা দেল রে ) চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩০টি গোল করেছেন। ৩৮টি সম্ভাব্য ম্যাচের মধ্যে মাঠে নেমেছেন ৩০টিতে। ইনজুরি থাকায় বাকি ম্যাচগুলো খেলতে পারেননি। সুস্থ ছিলেন এমন টানা ১১টি মৌসুমে বার্সাকে ত্রিশ কিংবা তার বেশি গোল উপহার দিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।
সর্বশেষ গোলটি করেন শনিবার। ভাইয়াদলিদের বিপক্ষে। তার একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠে ছাড়ে বার্সা। এই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে আরেকটি গোল করার সুযোগ হাতছাড়া করেন।
বাঁপায়ের জাদুকর মেসির দুর্বলতম জায়গা এই পেনাল্টি। ক্যারিয়ারে মোট ৬২ বার পেনাল্টি নিয়েছেন। লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি ১২ বার।
মেসি এবারও যেভাবে গোল করছেন, তাতে ৪০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছানো তার জন্য অসম্ভব কিছু না।
লা লিগায় ৫০টি গোল করেন ২০১১-১২ মৌসুমে। সেবার জাতীয় দল এবং ক্লাবের সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গোল করেন ৯১টি। এর মধ্যে অফিশিয়াল ম্যাচে গোলসংখ্যা ছিল ৭৩টি।
মেসি সবচেয়ে কম গোল করেন ২০০৪-০৫ মৌসুমে। সেবার মোট ২২টি অফিশিয়াল ম্যাচে মাঠে নেমে একটি গোল পান। প্রথম ৪০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছান ২০০৮-০৯ মৌসুমে। সেবার ৫৪টি অফিশিয়াল ম্যাচ খেলেন তিনি। তারপর টানা তিন মৌসুম যথাক্রমে ৪৬, ৫৪ এবং ৬৯টি গোল করেন।
২০১২-১৩ মৌসুমে ইনজুরির কারণে মাত্র ১৪টি ম্যাচ খেলেন। গোল করেন ১০টি। পরের টানা তিন মৌসুমে আবার আগুনে ফর্ম। ওই তিন মৌসুমে যথাক্রমে ৫৮, ৪১ এবং ৬০টি গোল করেন। গত মৌসুমে ৫৩টি অফিশিয়াল ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা ছিল ৪৪টি। এবার ৩৭ ম্যাচে এখনই ৩৫টি হয়ে গেছে!
